সিটি নিউজঃ সপ্তাহের ব্যবধানে ভোজ্য তেলের বাজার আরো চড়েছে। বেড়েছে পেঁয়াাজের বাজার দরও। আগের বাড়তি দামের সঙ্গে চলতি সপ্তাহে যোগ হয়েছে তেল প্রতি কেজিতে ২০ টাকা পেঁয়াাজের দাম বেড়েছে ৪০ টাকা ৬০ টাকা। সাথে বেড়েছে চাউলের দাম। এ নিয়ে চলতি মাসে দ্বিতীয় দফা এবং গত তিন মাসে ষষ্ঠবারের মতো দাম বেড়েছে।
খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা। আর বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে লিটারে ২০টাকা। পাম তেলের দামও বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা।
এর আগে চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝিতে মিলমালিকরা ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে চিঠি দেন।
বাজারে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারনে অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা।
ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বলছেন, করোনার কারণে সয়াবিন ও পামের খামারগুলোতে শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় কাঁচামালের সরবরাহ কম। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হয়েছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোজ্য তেলের বর্তমান দাম ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া এক বছর আগের তুলনায় ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ।
আজ বুধবার চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫ লিটার জারের দাম ছিল ৫শ থেকে ৫২৫ টাকা। তা বর্তমানে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাকলিয়া কল্পলোক আবাসিক এলাকার দোকানদার দেলোয়ার হোসাইন সিটি নিউজকে জানান, গত ২ সপ্তাহ ধরে তেলের বাজার উর্ধ্বমুখী। সাথে বেড়েছে পেঁয়াজের বাজারও। তিনি বলেন, সয়াবিন তেল রূপ চাঁন্দা পাইকারী কিনতে হচ্ছে প্রতি ৫ লিটার ৫৭৮ টাকা। বসুন্ধরা, পুষ্টি, মোস্তান ও এস আলম তেল প্রতি ৫ লিটার পাইকারী কিনতে হচ্ছে ৫৬০ টাক প্রতি ৫ লিটার। রূপ চাঁদা প্রতি ২ লিটার পাইকারী কিনতে হচ্ছে ২২৫ টাকা, আর প্রতিলিটার ১১৭ টাকা। অন্যান্যগুলো ১১৩ টাকা করে পাইকারী কিনতে হচ্ছে। প্রতি লিটারে আমাদের ২/১ টাকা লাভ ধরে বিক্রি করতে হচ্ছে। পেঁয়াজের বাজারও হঠাৎ উর্ধ্বমুখী। তিনি জানান, পেঁয়াজ দেশীটা পাইকারী কিনতে হচ্ছে ৮০/৮৫ টাকায়। তুরস্ক ও চীনের পেঁয়াজ পাইকারী কিনতে হচ্ছে ৩৭/৩৮ টাকায়।
তবে দেশের অন্যতম পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকরা বলছেন, তেল আমদানিতে তিন ধাপে ভ্যাট দিতে হয়। এটি পরিহার করে শুধু আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নিলে দাম কম রাখা সম্ভব।
