সিটি নিউজ,চট্টগ্রাম
স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের(চসিক) নির্বাচনের প্রচার ও প্রচারণা শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা ঘরোয়া বৈঠকে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। আজ থেকে মাঠে ময়দানের প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা।
গত বছর ২৯ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলে নির্বাচনের মাত্র নয়দিন আগে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) কারণে স্থগিত হয় চসিক নির্বাচন। দীর্ঘ দশ মাস পর আগামী ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। চার ওয়ার্ডে প্রার্থীর মৃত্যুতে ওয়ার্ডগুলোতে উপ নির্বাচনের জন্য নতুন করে তফসিল ঘোষণার পরও প্রার্থী সংখ্যা বেড়েছে ৬ জন।
চট্টগ্রামর আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন প্রার্থী, ৫৮ সংরক্ষিত কাউন্সিলর আর ১৭৬ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী। নতুন তফসিল হওয়া চার ওয়ার্ডের নতুন ৬ প্রার্থীকে আজ শুক্রবার সকালে নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবে। তবে একটি ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন একজন সাধারণ কাউন্সিলর।
প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়ে চট্টগ্রামর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আগামীকাল (শুক্রবার) চার ওয়ার্ডের প্রার্থীদের সকালে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। আমরা আশা করব প্রার্থীরা আনন্দমুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাবেন। কিন্তু কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘণের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকা মেয়র প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী, বিএনপির ডা.শাহাদাত হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো.জান্নাতুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন, ন্যাশনাল পিপলস পাটির আবুল মনজুর, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহিদ মুরাদ এবং সতন্ত্র খোকন চৌধুরী।
শুক্রবার বহদ্দার বাড়ির মসজিদে বা’দ জুমা আদায় ও পিতা ও মাতার কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন বলেছেন চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, কাল (শুক্রবার) চসিক ওয়ার্ডের এক,দুই এবং তিন নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ,যুবলীগ,ছাত্রী লীগসহ সকল স্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করা হবে। চসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন শুক্রবার বা’দ জুমা হযরত আমানত শাহ (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। এরপর আন্দরকিল্লাহ, পাথরঘাটা ও ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করবেন তিনি।
এদিকে, গত বছরের ২ মার্চ হালনাগাদ শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। চসিক নির্বাচন উপলক্ষে চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭২৩ জন ও নারী ভোটার ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩২৯ জন।
কিন্তু করোনার কারণে প্রায় ১০ মাস নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এরই মধ্যে অনেক ভোটার মারা গেছেন। অনেক ভোটার আবার স্থানান্তর হয়েছেন অন্যত্র। এসব কারণে চূড়ান্ত তালিকা থেকে ১২ হাজার ৩৪৬ জন ভোটারের নাম বাদ দিতে হচ্ছে কমিশনকে। এতে বর্তমানে ভোটারের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জনে। এ কারণে চসিক নির্বাচনে ভোটার তালিকায় আসছে পরিবর্তন। চসিক নির্বাচনে এসব ভোটার মহানগরীর ৭৩৫টি স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রের চার হাজার ৮৮৬টি ভোটকক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নতুন তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে জানিয়ে চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, করোনার কারণে চসিক নির্বাচন প্রায় ১০ মাস নির্বাচন স্থগিত থাকায় ভোট গ্রহণের নানা কার্যক্রমে পরিবর্তন আসছে। প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যা আগেরগুলো ঠিক থাকলেও ভোটার তালিকায় পরিবর্তন করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা অনেক ভোটার করোনার সময়ে মারা গেছেন। অনেক ভোটার আবার এক এলাকা থেকে স্থানান্তর হয়েছেন অন্য এলাকায়। এসব কারণে তালিকা থেকে সেসব ভোটারের নাম বাদ দিয়ে নতুন তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, চসিক নির্বাচনে পূর্বে নির্ধারিত ৭৩৫টি ভোট কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। চার হাজার ৮৮৬টি কক্ষে ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করবেন ৭৩৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, চার হাজার ৮৮৬ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও নয় হাজার ৭৭২ পোলিং কর্মকর্তা।
সিটি নিউজ/জিএস
