অর্থবাণিজ্য ডেস্ক : অষ্টম বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড থাকছে না বলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তা থেকে সরে এসেছেন। এখন তিনি বলছেন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
এর আগে গত মঙ্গলবার সচিবালয়েই সাংবাদিকদের বলেছিলেন ‘এবারের বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল থাকছে না। এটা একেবারে উঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এটার আর প্রয়োজন পড়বে না। এ জন্য কোনো প্রকার প্রভাব পড়বে না বলে আমি মনে করি।’
বৃহস্পতিবার প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ২৬টি ক্যাডার ও বিভিন্ন ফাংশনাল সার্ভিসের সমন্বয়ে গঠিত ‘প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি’র একটি প্রতিনিধি দল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির সদস্য-সচিব ও বিসিএস সমন্বয় কমিটির মহাসচিব মো. ফিরোজ খান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুর, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশশের মহাসচিব মোবারক আলী ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. এম. ইকবাল আর্সলান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি কাঙ্ক্ষিত বেতন স্কেল ঘোষণা করা সত্ত্বেও সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল না রাখায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। কারণ পদ কম থাকায় কোনো কর্মকর্তা পদোন্নতি না পেলেও টাইম স্কেল গ্রেড পান। এতে তিনি মর্যাদা ও আর্থিকভাবে লাভবান হতেন। কিন্তু অষ্টম জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ থেকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বন্ধ করে দেওয়ায় এখন আর এ সুযোগ থাকছে না। যা কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশার জন্ম দেবে এবং কর্মক্ষেত্রে যথাযথ দায়িত্ব পালনের উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন।
অভিযোগ করে তারা বলেন, সিলেকশন গ্রেড বন্ধ করায় বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে পদ অবনমন হয়েছে। ২০১৫ বেতনস্কেল অনুযায়ী শিক্ষা ক্যাডারের কোন কর্মকর্তাই আর শীর্ষ পদ লাভ করতে পারবেন না। নতুন বেতন কাঠামোর কারণে বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থাপ্রধানের পদের মানোন্নয়নে বৈষম্যর সৃষ্টি হয়েছে।
তারা আরো জানান, সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি অফিস স্মারক উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। কারণ এ স্মারকের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অধিক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে এবং অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তা ও দফতরের ওপর কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়েছে।
চাকুরীজীবী ও পেশাজীবীদের নেতারা বলেন, একটি স্বাধীন দেশের সিভিল সার্ভিসের বেতন কাঠামোতে নতুন করে বৈষম্য সৃষ্টি করা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি জনপ্রশাসন যখন সময়ের দাবি তখন উপজেলা পরিষদকে কার্যকর করার নামে সরকারি কর্মকর্তার কর্তৃত্ব সৃষ্টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
জাতীয় বেতনস্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল পুনর্বহাল, উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা অফিস স্মারকের সংশোধন এবং চাকুরির ক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য নিরসনে অর্থমন্ত্রীর কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেন পেশাজীবী নেতারা ।
মুহিত বলেন, ‘টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। পে-স্কেলের সুপারিশ অনুযায়ী বাতিল করেছিলাম। এখন সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ও প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি রিজিড না, সবকিছুই আলোচনা করে সমাধান করার সুযোগ আছে।’
বিভিন্ন ক্যাডারে পদ সংখ্যার সমন্বয় না থাকায় পদায়নের সমস্যাগুলো দীর্ঘায়িত হচ্ছে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটা ক্যাডারে প্রথম ৭ গ্রেডে ২২ হাজার পোস্ট আছে, এটা ফেয়ার না।’
