অর্থবাণিজ্য ডেস্ক :: দেশের ১৫টি সরকারি চিনি কলে এখনও অবিক্রিত রয়েছে প্রায় হাজার কোটি টাকার চিনি। এছাড়া প্রতিটি চিনি কলের মাথায় আছে গড়ে শত কোটি টাকার লোকসানের বোঝা। এই অবস্থায়ও মৌসুম চলে আসায় আবারও লোকসানের ঝুঁকি নিয়েই উৎপাদনে যাচ্ছে চিনি কলগুলো।
তবে এবছর বেশিরভাগ চিনিই বিক্রি হবে এমন আশা মিল কর্তৃপক্ষের। মূলত গত ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পরিশোধিত ও অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করায় এমনটা আশা করছেন তারা।
স্থানীয় চিনি শিল্পকে রক্ষা করতে চিনিকল মালিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল চিনি আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো।দেশের বাজারে দেশীয় চিনির চাইতে আমদানিকৃত চিনির দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা আমদানিকৃত চিনি কিনছে। ফলে বিশাল পরিমান চিনি অবিক্রিত পড়ে আছে।
এ অবস্থায় আমদানিকৃত চিনিতে ভ্যাট আরোপ ও ট্যারিফ মূল্য বাড়ানোর ফলে দেশীয় চিনি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জনে সহয়ক হবে বলে আশা করছে মিলগুলো।
ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ কে এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, ১৫ সরকারি চিনিকলের গুদামে এখন প্রায ১ লাখ ৩৬ হাজার টন চিনি পড়ে আছে।
তবে এবছর অবস্থার কিছু পরিবর্তন হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন এর আগে দাম কমিয়ে, আমদানি শুল্ক বাড়িয়েও চিনির বিক্রি বাড়েনি। তবে এবার ভিন্ন চিত্র আশা করছি।
তিনি বলেন, সরকার পরিশোধিত ও অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করেছে । এটা দেশি চিনি কলগুলোর জন্য সুখবর।
তার মতে, ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকরা তুলনামূলক কম চিনি আমদানি করবে। ফলে দেশের প্রায় ১৪ লাখ টন চিনির চাহিদা মেটাতে মিলের চিনির চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ফরিদপুরের মধুখালী চিনিকলের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাড়তি শুল্ক আরোপ মিলগুলোর জন্য কোনো কাজেই আসবে না। এটা আমদানিকারকদেরই সুবিধা দেবে।
গত বছর আমাদের চাহিদার চাইতেও প্রায় ৫ লাখ মেট্রিকটন বেশি চিনি আমদানি করা হয়েছে। আর এখন সেই চিনি বাড়তি দামে বিক্রি করছে। এটা আমদানিকারকদের বাড়তি সুবিধার জন্যই করা হয়েছে। শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে দাম বাড়ানো ছাড়া আর কিছু হয় না।
বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণার পরে থেকেই খোলা ও পাইকারি বাজারে আমদানি করা চিনির দাম বেড়ে গেছে উল্লেখ করে ও কর্মকর্তা বলেন, হিসাব করে দেখেন গত বছর আমাদের চাহিদার চাইতেও প্রায় ৫ লাখ মেট্রিকটন বেশি চিনি আমদানি করা হয়েছে। আর এখন সেই চিনি বাড়তি দামে বিক্রি করছে। এটা আমদানিকারকদের বাড়তি সুবিধার জন্যই করা হয়েছে। শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে দাম বাড়ানো ছাড়া আর কিছু হয় না।
এদিকে আগের আমদানি করা চিনির দাম কেন বাড়তি রাখা হচ্ছে তার কোনো যৌক্তিক জবার দিতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম দোষ চাপালেন ডিলারদের ওপর। তার অভিযোগ, ডিলাররা এখন আগের দামে চিনি ছাড়ছেন না। ভ্যাট বাড়ানোর খবরের দিন থেকেই তারা বাড়তি দাম রাখছে।
তবে শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর হঠাৎ করে চিনির দাম কিছুটা বাড়লেও দেশের চিনি শিল্পের জন্য তা ইতিবাচকই হবে বলে মনে করছেন ভোক্তাদের কেউ কেউ। তবে এজন্য দেশি পণ্যের প্রতি আগে ভোক্তার দরদ বাড়ানোর জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করেন রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকার এক দোকানে চিনি কিনতে আসা শফিকুলের (ছদ্ম নাম) ।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন এর তথ্য অনুযায়ী, চিনিকলগুলোতে এখন ১ লাখ ৩৬ হাজার টন চিনি পড়ে আছে। যার বর্তমান মোট বাজার দামও হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এই অবস্থায় মিল মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে এনবিআর পরিশোধিত ও অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে।
এছাড়াও অপরিশোধিত চিনির টন প্রতি ট্যারিফ মূল্য ৩২০ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ ডলার এবং পরিশোধিত চিনির ট্যারিফ মূল্য ৪০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৪৩০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
