রফতানিতে আয় বেড়েছে ২১ কোটি ৮৯ লাখ ডলার

0

অর্থবার্ণিজ্য ডেস্ক : অর্থবছরের শুরুতে তেমন গতি না থাকলেও ছয় মাসের মাথায় এ গতি পেল। জুলাই-ডিসেম্বরে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা রফতানি করে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ১ হাজার ৬০৮ কোটি মার্কিন ডলার। লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ২১ কোটি ৮৯ লাখ ডলার বেশি রফতানি আয় হয়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এতে বলা হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের চাইতে রফতানি আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রফতানি খাতে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৪৯১ কোটি ৪২ লাখ ডলার। এ হিসেবে ছয় মাসে আয় বেড়েছে ১১৬ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। আবার একক মাস হিসেবে ডিসেম্বরের আয় ৩২০ কোটি ৪১ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৯৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ২৮৪ কোটি ৪১ লাখ ডলার। এ হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি এসেছে ডিসেম্বরে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ইপিবি সূত্র জানায়, রফতানিতে বড় ধরনের মন্দায় চলতি অর্থবছর শুরু হয়েছিল। প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের বছরের চাইতে রফতানি কমেছিল ১২ শতাংশ। আগস্ট মাসে রফতানি বাড়ে প্রায় ২৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে রফতানি কমে ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। চতুর্থ মাসে এসে আবার ঘুরে দাঁড়ায় রফতানি খাত।

ইপিবির সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশিষ বসু বলেন, বছরের শুরুতে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যেসব ক্রেতা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে চিন্তা করছিলেন, তারা সবাই এখন বাংলাদেশ থেকে পণ্য কিনছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের গার্মেন্ট মালিকরা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মপরিবেশের উন্নতি করায় রফতানি আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ থেকে কম দামে ভালো মানের পোশাক রফতানি করা হয়।

পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ তা পারবে না। সে কারণে ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি পোশাক কিনবে। ইপিবির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ছয় মাসে রফতানি আয়ের প্রায় ৮২ ভাগ এসেছে পোশাক খাতের হাত ধরে। এ সময়ে নিট খাতে এসেছে ৬৪৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর ওভেন খাতে রফতানি আয় এসেছে ৬৭০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। পোশাকের দুই খাতে এসেছে ১ হাজার ৩১৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। নিট খাতে ৬ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ওভেন খাতে ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ছয় মাসে। এর বাইরে হোম টেক্সটাইল খাতে ২৩ কোটি ৯২ লাখ ডলার, বিশেষায়িত টেক্সটাইলে ৫ কোটি ২৮ লাখ ডলার ও বিশেষায়িত ওভেন ফেব্রিক্স রফতানি করে ৭৭ লাখ ডলার, টেরিটাওয়েলে ২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার ও নিটেড ফেব্রিক্সে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় হয়েছে।

বেশ কয়েক মাস ধরেই হিমায়িত খাদ্য রফতানিতে মন্দা বিরাজ করছে। ছয় মাসে এ খাতে আয় কমেছে ১৯ শতাংশের বেশি। ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতে আয় হয়েছে ৫৫ কোটি ২৬ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৬৮ কোটি ২৮ লাখ ডলার। জীবিত মাছ রফতানিতে ১৮৩ শতাংশ ও হিমায়িত মাছ রফতানিতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও চিংড়ি রফতানি কমেছে ২২ দশমিক ৪০ শতাংশ। তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পোশাক শিল্পের বাইরে অধিকাংশ খাতেই রফতানি কমেছে। কৃষিপণ্যে ১৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ, সিমেন্ট রফতানিতে ৫৭ দশমিক ৬১ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্যে ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ২ দশমিক ০৫ শতাংশ, পাট ও পাটপণ্যে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ রফতানি কমেছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কাঁচা পাট রফতানি বেড়েছে ৩২ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.