অর্থ ও বাণিজ্য : বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হাওয়া ৬৬ মিলিয়ন ডলার ফেরত পেতে পুনরায় শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ফিলিপাইন সরকারের অর্থমন্ত্রী, আইন প্রতিমন্ত্রী, সিনেট কমিটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। অর্থ ফেরত পেতে তারা প্রশাসনিক ও আইনি সব ধরনের সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হদিস না মেলা ৬৬ মিলিয়ন ডলার রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনকেই (আরসিবিসি) পরিশোধ করতে হবে বলে মনে করে বাংলাদেশ। রিজাল ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর দায় চাপিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানালেও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আরসিবিসি যে এ কেলেঙ্কারির সঙ্গে খুব করে সংশ্লিষ্ট সে ব্যাপারটি স্পষ্ট। আর তাই আরসিবিসিকে ৬৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের জন্য আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম এবং সুইফট কোড কন্ট্রোলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ৩০টি পেমেন্ট অ্যাডভাইজ পাঠায় ফিলিপাইনের স্থানীয় ব্যাংকে টাকা স্থানান্তরের জন্য। এর মধ্যে ৪টি অ্যাডভাইজ অনার করে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক। যার মাধ্যমে ৮১ মিলিয়ন ডলার সফলভাবে পাচার করতে সক্ষম হয় হ্যাকাররা। রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর আরসিবিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
বলা হয়, ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ চুরি করে। অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এখনো পর্যন্ত ফেরত পেয়েছে মাত্র ১৫ মিলিয়ন ডলার। বাকি ৬৬ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার নিয়ে আলোচনা করতে বর্তমানে ফিলিপাইনে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। এ দলের নেতৃত্বে ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
