খুন হলে সবাই বিচার চায় কিন্তু আমাদের সেই অধিকারও ছিল নাঃ শেখ হাসিনা
সিটি নিউজ ডেস্কঃঃ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছিল। ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না। নিশ্চিহ্ন করতে পারে না। আজ তা প্রমাণিত হয়েছে।
আজ বুধবার (৭ মার্চ ) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওই জনসভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। দুপুর সোয়া ২টার দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় জনসভা।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শুরু করেন। ৫টা ২৩ মিনিটে তাঁর বক্তব্য শেষ হয়।
১৯৭১ সালের এই দিনে এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই (তৎকালীণ রেসকোর্স ময়দান) বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের ডাক দেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৭মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়া এবারের রেসকোর্সের জনসভা নতুন মাত্রা লাভ করে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৭ মার্চ জাতির পিতা গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, একটিমাত্র ভাষণ, যা লিখিত ছিল না। ছিল জাতির পিতার মনের কথা। যে ভাষণের মধ্য দিয়ে নিপীড়নের ইতিহাস যেমন উঠে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধের জন্য কি কি করণীয় তা বলে দিয়েছেন। বাংলাদেশের জনগণ অক্ষরে অক্ষরে তা মেনে চলত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ আজ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ভাষণটি আড়াই হাজার বছরের মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম ভাষণ হিসেবে একটি বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যার লেখক জ্যাকব এফ ফিল্ড।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাতে পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। বঙ্গবন্ধু এ সময় একটা প্রদেশকে রাষ্ট্রে উন্নীত করা, বিশ্বের অন্যান্য দেশের স্বীকৃতি লাভ করা, বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, শরণার্থীদের পুনর্বাসন, আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করা, রাস্তাঘাট মেরামত করেছিলেন তিনি। এসময় তিনি সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর পর ২১ বছর বাংলার মানুষ ব্ঞ্চনার শিকার হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘খুন হলে সবাই বিচার চায়। আমার পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। কালো আইন জারি করে আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিচারও তারা রুদ্ধ করে রেখেছিলেন।
তিনি বলেন, যারা এতিমের টাকা চুরি করে, আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, জনগণের টাকা মেরে বিদেশে পাচার করেছে, রাজাকারদের মন্ত্রী বানিয়েছে তারা এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা ক্ষমতায় এসে কোনো উন্নয়ন করতে পারে না।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বসভ্যায় আবার মর্যাদা নিয়ে চলবে। সে লক্ষ্যেই কাজ করেছি। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ থাকলে দেশের উন্নতি হয়। অন্যরা থাকলে হয় না কেন? কারণ তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসই করেনি।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষ এখন স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য এ দেশের আপামর জনগণের সমর্থন কামনা করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, দেশের গ্যাস নিয়ে জনগণের স্বার্থ দেখেছিলাম বলেই ষড়যন্ত্র করে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হয়নি।
আওয়ামীলীগের উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমু বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করেনি, তারপরও সরকার টিকে আছে। আমু বলেন, একটি দেশের নির্বাচন হয়, সে দেশের সংবিধান অনুযায়ী। যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন গ্রহণ করতে পারে নাই, তারপরও সরকার আছে। আওয়ামীলীগ কারও রক্ত চক্ষুকে ভয় পায় না।
বিএনপির উদ্দেশ্যে এ আওয়ামীলীগের প্রবীণ এ নেতা বলেন, নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা এ দেশের মানুষ মেনে নেয় নাই। শত শত মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন। জ্বালাও-পোড়াও করেছেন। এবারও ষড়যন্ত্র বাংলার মানুষ বরদাস্ত করবে না। আপনারা যদি নির্বাচনে না আসেন তাহলে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।
জনসভা শুরুর আগে থেকেই আওয়ামীলীগের দলীয় পতাকা ও জাতীয় পতাকার আবরণে বিভিন্ন শার্ট, গেঞ্জী ও টুপি পরিহিত উপস্থিতি সবার নজর কাড়ে। তাদের হাতে ছিল লাল সবুজের পতাকায় আবৃত নৌকা প্রতিক সমাবেশ স্থলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় অনেকগুণ।
