নিজস্ব প্রতিনিধি,চন্দনাইশ : চন্দনাইশ উপজেলার দক্ষিণ সীমান্তবর্তী শঙ্খনদীর উপর ৫ম খোদারহাট সেতুটি দীর্ঘ ২৩ বছর পর পটিয়ার জনসভায় আনুষ্টানিক উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২১ মার্চ পটিয়ার জনসভায় ৪২টি প্রকল্পের সাথে সেতুটি উদ্বোধন করা হয়। ১৯৯৫ সালের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা ব্রীজ উদ্বোধন করা ছাড়া অন্য কোন প্রকল্প পায়নি চন্দনাইশবাসী তাই হতাশা নিয়ে ফিরেছেন বাড়ী।
উপজেলার দক্ষিণ সীমান্তবর্তী শঙ্খনদীর উপর ৫ম খোদারহাট সেতুটি দীর্ঘ ২৩ বছর পর জনগণের জন্য আনুষ্টানিক উদ্বোধন করে উম্মুক্ত করে দেয়া হয় গত ২১ মার্চ পটিয়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৫ সালে ৩৮ কোটি ৩২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের লক্ষে টেন্ডার আহবান করা হয়। ৩৬ মাসে কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল। আল আমিন কনস্ট্রাকশন কোম্পানী ৫টি পিলার নির্মান করে ১ম পর্যায়ে ৩ কোটি ৪০ লক্ষ ১১৬ টাকা বিল উত্তোলন করে কাজ বন্ধ করে চলে যান।
বিএনপি ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর নির্মাণ কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে পড়ে। ২৫৯.৮৮ মিটার সেতুটি পরবর্তীতে নদী ভাঙ্গনের ফলে ৩২৮ মিটার দীর্ঘ হয়ে পড়ে। ফলে বরাদ্দ বেড়ে ৬ কোটি ৫০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাড়ায়। ২০০৮ সালে পুনরায় আরো ১ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি করে টেন্ডার আহবান করা হয়। কিন্তু ফান্ডের অভাবে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ৩২৮ মিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ফুটপাতসহ ৫টি পিলার,৬টি স্পার্ক,২টি এডাপমেন্ট ৮২টি ফাইল সম্মিলিত পিসি গাডার সেতু নির্মানের জন্য প্রাক্কলন নিধারণ করা হয়েছিল। ফলে নির্মান ব্যয় ১৪ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা ধার্য্য করে ২০১০ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে টেন্ডার আহবান করা হয়।
টেন্ডারের কাশেম কনস্ট্রাকশন একই সালের অক্টোবর মাসে ১ম সপ্তাহে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ২ বছর তথা ২০১৩ সালে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও ২০১৬ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে সড়কের দুই পাশে এপ্রোচ সড়কের কাজ সম্পন্ন করে দীর্ঘ ২৩ বছর পর গত ২১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্টানিকভাবে উদ্বোধন করে সেতুটি উম্মুক্ত করে দেন। উল্লেখ্য যে, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের শাসন আমলে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী কর্ণেল অলি আহমদ বীর বিক্রম সাতকানিয়া চন্দনাইশের সাথে যোগাযোগের পাশা-পাশি অবলেহিত এলাকার উন্নয়নের লক্ষে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করেছিলেন।
বৈলতলী বাসীর বহুদিনের কাঙ্কিত স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় চন্দনাইশ-সাতকানিয়া-বাশঁখালীর বাসীর যোগাযোগ আরও সহজতর হয়ে উঠেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২১ মার্চ পটিয়ার জনসভায় ১৪টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ২৮টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেও চন্দনাইশে উন্নয়ন মূলক কোন প্রকল্প না থাকায় চন্দনাইশবাসী হতাশা প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনু’র নেতৃত্বে পৃথক পৃথক শোডাউন করে মিছিল সহকারে হাজার হাজার সমর্থক ও নেতা-কর্মী সমাবেশে যায়। কিন্তু কোন ধরণের প্রকল্পের তালিকায় চন্দনাইশের নাম না থাকায় হতাশা নিয়ে বাড়ী ফিরেছে নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা।
