মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত

0

সিটিনিউজ ডেস্ক:: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) কর্তৃপক্ষ।

আজ সোমবার দুপুরে ঢামেক হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. শাহ আলম তালুকদার বলেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারজন চিকিৎসক গতকাল কারাগারে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। এ সময় তাঁরা কিছু ব্যবস্থাও দিয়েছেন। আর কিছু বিষয়ে পরীক্ষার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

‘মেডিকেল বোর্ডের বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে,’ যোগ করেন ঢামেক হাসপাতালের উপপরিচালক।
তবে খালেদা জিয়া কী রোগে ভুগছেন, সেই বিষয়ে কিছু বলেননি ঢামেক কর্মকর্তা। তিনি এ ব্যাপারে বলেন, এটি রোগীর একান্ত বিষয়। তা জানানো ঠিক নয়।
গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে প্রায় এক ঘণ্টা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন ঢাকা মেডিকেলের চারজন চিকিৎসক। তাঁরা হলেন অর্থোপেডিক বিভাগের অধ্যাপক শামসুজ্জামান, নিউরোলজি বিভাগের মনসুর হাবীব, মেডিসিন বিভাগের টিটু মিয়া ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সোহেলী রহমান।

গতকাল রোববারই ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছিলেন, মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের পরামর্শ লিখিতভাবে কারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

যদিও আজকের সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপপরিচালক জানান, তিনি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানে আছেন। তাই তিনি এখানে আসতে না পারার কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ২৯ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার দিন ঠিক ছিল। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, খালেদা জিয়া অসুস্থ, তাঁকে আদালতে হাজির করা যাবে না। এর পরই বিষয়টি সবার আলোচনায় আসে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ওই দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপির মহাসচিবের সাক্ষাৎ স্থগিত হওয়ার পর।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। একই রায়ে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয় এবং আসামিদের ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এরপর পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখা হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.