সচেতনতা বাড়িয়ে অটিজমবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে: কমিশনার
নিজস্ব প্রতিবেদক:: চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেন, অটিজম কোন অসুস্থতা নয় বরং এটি একজন শিশুর একটি অবস্থা মাত্র। সঠিক যত্ন, থেরাপিগত চিকিৎসা ও কাউন্সিলিং পেলে অটিস্টিক শিশু সাধারণ শিশুদের মত স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে। তাই শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সর্বোপরি জীবন-যাপনে সর্বক্ষেত্রে তাদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে হলে তাদের উপযোগী একটি যথোপযুক্ত পরিবেশ ও অটিজম বান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বিভাগীয় কমিশনার আজ চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে ১১তম বিশ্ব অটিজম দিবস উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তৃায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকার দেশের ৬৪টি জেলা ও ৩৯টি উপজেলায় ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করেছে। এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৪ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সেবা গ্রহণ করেছে। ঢাকা শিশু হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালসহ অনেকগুলো সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শিশু বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন করে অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল সমস্যা জনিত শিশুদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে অটিজম আক্রান্তদের সনাক্ত করে তাদের কাউন্সিলিং ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট ফর পেডিয়াট্রিক নিউরো ডিজ-অর্ডার এন্ড অটিজম এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে ডাক্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে নগরীর গুলপাহাড় মোড় থেকে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. নুরুল আলম নিজামীর নেতৃত্বে র্যালি বের করে প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শেষ হয়। পরে হয় চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
মূখ্য আলোচক ডা. ফাহমিদা ইসলাম চৌধুরী বলেন, সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে অটিজম রোগীদের মানসিক উন্নতি সম্ভব। তিনি আরো বলেন, অটিজম আক্রান্তরা আমাদের সমাজেই অংশ। এরা একটি ডিফিক্যাল্ট ডিজাবিলিটিতে আক্রান্ত। এদের বাদ দিয়ে সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
এ ধরণের শিশুরা পারিবার্শ্বিক অবস্থা ভুলে গিয়ে নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আর এই কারণে অনেকে তাদের পাগল হিসেবে চিহ্নিত করে। আবার অনেক ক্ষেত্রে তাদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। অথচ সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে অটিজম থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
আলোচনা সভায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
