বশির আলমামুন,চট্টগ্রাম :: আজ পহেলা বৈশাখ। বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। চৈত্রসংক্রান্তির মাধ্যমে গতকাল বিদায় নিয়েছে ১৪২৪ সন। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে আজ যুক্ত হল নতুন বছর। স্বাগত ১৪২৫। আজ জীর্ণ–পুরাতনকে পেছনে ফেলে সকল গ্লাণি ঝেড়ে মুছে মহা খূশি ও আনন্দ নিয়ে বর্ণিল আয়েজন অনুষ্টান মালা সহ নানা উৎসব মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার শক্ত মনোবল নিয়ে আগামী সম্ভাবনার নতুন বছরে প্রবেশ করবে বাঙালি জাতি।
সকালে ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দেবে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে। চট্টগ্রাম জুড়ে থাকছে বর্ষবরণের নানা আয়োজন। তবে এসব আধুনিক অনুষ্টান ও আয়োজন মালার ভীড়ে গ্রাম বাংলার চিরাচরিত কিছু রীতি এবং এতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। বাঙ্গালী সংস্কুতির রীতিনীতি ধরে রাখার জন্য গ্রামে কিছু পুরনো উৎসব পালন হলেও শহরে তা ভিন্ন।
মঙ্গল শোভা যাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্টান, পান্থা ইলিশ, ও হোটেল রেষ্টুরেন্টে তৈরী করা খাবরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে পহেলা বৈশাখের অনুষ্টান মালা। গ্রাম বাংলার কোন প্রাচীন সংস্কৃতি বা উৎসবের আমেজ শহরে নেই বললেই চলে।
উতিহাস থেকে জানাযায় তৎকালীন কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুরু মোঘল সম্র্রট আকবরের সময়ে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসন ভিত্তি করে প্রবর্তন হয় নতুন এই বাংলা সন। ১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে।
কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে। পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাঙালির অসা¤প্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।
১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়। বর্তমান বাংলা নববর্ষ পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সার্বজনীন উৎসবে, বাঙালির প্রাণের উৎসবে। এ উৎসব বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আজ বর্ষবরণের এ উৎসব আমেজে মুখরিত থাকবে বাংলার চারদিক। গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করে বাঙালি মিলিত হবে তার সর্বজনীন এই অসা¤প্রদায়িক উৎসবে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের পথে ঘাটে, মাঠে–মেলায়, অনুষ্ঠানে থাকবে কোটি মানুষের প্রাণের চা ল্য। জাতি ধর্ম বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে সবশ্রেণির নাগরিক এ উৎসবে অংশ নেবে। বাঙালি সংস্কৃতির উপর আঘাত, মৌলবাদ ও সা¤প্রদায়িকতা জঙ্গিবাদ এর মতো অপশক্তির অন্ধকার কাটিয়ে নতুন আলোয় আলোকিত করার প্রত্যয়ে শহর, গ্রামজুড়ে বসবে উৎসবের মেলা। সবাই একসুরে গেয়ে উঠবে, ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো..।’
নতুন বছরকে বরণ করে নিতে গত কয়েকদিন ধরেই ঘরে বাইরে ছিল নানা– প্রস্তুতি। নতুন সাজপাশাক, ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন থাকবে ঘরে ঘরে। গতকাল বর্ষবিদায় উপলক্ষে নগরীর ডিসি হিল ও সিআরবির শিরীষতলাসহ নানা স্থানে দিনভর ছিল বর্ণিল আয়োজন। সবুজ প্রতিতে ঘেরা শিরীষতলায় বর্ষবিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে ‘নববর্ষ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম।’ ডিসি হিলে অনুষ্ঠানের আয়োজক ‘সম্মিলিত বৈশাখী উদযাপন পরিষদ’।
‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির উৎসব সবার যোগে জয়যুক্ত হোক’ এ হ্মোগানে এ বছর এটা তাদের ৪০তম বর্ষবিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান। চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতেও অনুষ্ঠান আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। সর্বত্র নারী ও শিশুসহ নানা বয়সী মানুষের ঢল নামে বর্ষবিদায়ের অনুষ্ঠানে। নাচ, গান ও আবৃত্তিতে জমজমাট হয়ে উঠে অনুষ্ঠান অঙ্গন।
ডিসি হিল : অভ্যূদয় সংগীত অঙ্গনের পরিবেশনার মাধ্যমে ডিসি হিলে গতকাল শুরু হয় বৈশাখের দুদিন ব্যাপী আয়োজন। এরপর ছিল ওড়িশী অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টারের ‘বাংলা আমার সরষে ইলিশ’ গানের সঙ্গে নৃত্য।
এছাড়া বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেয় শ্রুতিঅঙ্গন বাংলাদেশ, মোহরা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কৃষ্ণচূড়া স্কুল, কুসুম ললিতকলা একাডেমি, নবকুঁড়ি, সেবাঘর সংস্কৃতি দল, শান্তঞ্জলি সঙ্গীত নিকেতন, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি, গোসাইলডাঙ্গা কল্পতরু সংঘ, চারুলতা নৃত্যকলা একাডেমি, ডান্স একাডেমি, অঙ্গনা নৃত্য একাডেমি, শ্যামা নৃত্যাঙ্গন, নিক্কন একাডেমি, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ, তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, নরেন আবৃত্তি একাডেমি।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্ষবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানকে ঘিরে ডিসি হিলে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিন স্থরের নিরাপত্তা রয়েছে এখানে। একটি ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে।
ডিসি হিলে আজকের আয়োজন : এখানে আজ ভোর ছয়টায় শুরু হবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। নতুন বছরকে সম্মেলক গানে স্বাগত জানাবেন শিল্পীরা। দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেবে রক্তকরবী, সংগীত ভবন, জয়ন্তী, ছন্দানন্দ সাংস্কৃতিক পরিষদ, গুরুকুল সংগীত একাডেমি, সুর–সাধনা সংগীতালয়, গীতধ্বনি, সৃজামি সাংস্কৃতিক অঙ্গন, ইমন কল্যাণ সংগীত বিদ্যাপীঠ, রাগেশ্রী, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগর, বংশী শিল্পকলা একাডেমি, নটরাজ নৃত্যাঙ্গন একাডেমি, স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ডান্স, ওড়িশি অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার, নৃত্যম একাডেমি, ঘুঙুর নৃত্যকলা কেন্দ্র, স ারী নৃত্যকলা একাডেমি, নৃত্য নিকেতন, দি স্কুল অব ক্লাসিক অ্যান্ড ফোক ডান্স, কৃত্তিকা নৃত্যালয়, বোধন আবৃত্তি পরিষদ, প্রমা আবৃত্তি সংগঠন, স্বরনন্দন প্রমিত বাংলা চর্চা কেন্দ্র ও উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ। বেলা দুইটা থেকে পরিবেশন করবে সুন্দরম শিল্পী গোষ্ঠী, উপমা সাংস্কৃতিক অঙ্গন, ফতেয়াবাদ সংগীত নিকেতন, শহীদ মিলন সংগীত বিদ্যালয়, বাণী মঞ্জুরি ললিতকলা একাডেমি, সপ্তডিঙ্গা শিল্পাঙ্গন, নৃত্যনন্দন একাডেমি, নৃত্যরঙ একাডেমি নৃত্যরূপ একাডেমি, ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দল ও শব্দনোঙর আবৃত্তি সংগঠন।
সিআরবি : সিআরবির শিরীষতলায় বর্ষবিদায় ও বরণের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার রয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। গতকাল বিকেলে ঢোল বাদন ও বেলুন উড়িয়ে এখানে বর্ষ বিদায়ের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়। গ্রাম–বাঙলার ঐতিহ্য বাংলাদেশের জাতীয় খেলা ‘কাবাডি’ প্রতিযোগিতা সিআরবির বর্ষ বিদায়ের আয়োজনে দেয় ভিন্ন মাত্রা।
আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, ‘নববর্ষ উদযাপন পরিষদের আয়োজনে প্রথমবার যুক্ত হল কাবাডি। বলি খেলার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর কাবাডি খেলা। জাতীয় খেলা হিসেবে এটার গুরুত্বও অনেক। ভবিষ্যতে এই খেলা সবখানে ছড়িয়ে দিতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ প্রসঙ্গত, কাবাডি খেলায় সেতু ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নীল দল চ্যাম্পিয়ন হয় এবং রানার্স আপ হয় আনোয়ারার উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা।’
সিআরবিতে আজকের অনুষ্ঠান : পহেলা বৈশাখ বরণ উপলে সিরআরবি’র শিরীষতলায় আজও বর্ণাঢ্য আযোজন থাকছে। সকাল সাড়ে সাতটায় ‘ভায়োলিনিস্ট চিটাগাং’ এর পরিবেশনা। বেহালার শ্রশুতিমধুর সুর জানান দিবে বৈশাখ এসেছে। এরপর দুপুর দুইটা পর্যন্ত চলবে দলীয় পরিবেশনা। বেলা দুইটায় হবে সাহাবউদ্দীনের বলী খেলা। বিকেল পৌনে চারটা থেকে একক সঙ্গীত পরিবেশন করবেন শিল্পীরা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আজ সকাল ৯ টা থেকে বহদ্দারহাট টার্মিনাল সংলগ্ন স্বাধীনতা পার্কে বৈশাখী ও লোকজ উৎসব এবং ১৪২৫ বঙ্গাব্দ উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
হোটেল র্যাডিসন ব্লু: বাংলা বর্ষকে বরণের আয়োজন করছে চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল র্যাডিসন ব্লু । লাইভ মিউজিক, বাফেট ডিনারসহ নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে হোটেলের মোহনা হলে। এখানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা।
হোটেল আগ্রাবাদ : বর্ষবরণ উৎসব উপলক্ষে হোটেল আগ্রাবাদে থােেকছ বিভিন্ন রকমের দেশীয় খাবারের বৈশাখী ব্যুফে মধ্যাহ্ন এবং নৈশ ভোজ।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব : বাঙালির চিরায়ত মোহনীয় পহেলা বৈশাখকে বরণ করছে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব। সুস্থ বিনোদন, আড্ডা, আলাপচারিতা, কথামালায় বর্ণিল হবে প্রেস ক্লাবের আয়োজন। থাকছে বাঙালির বৈশাখী মধ্যাহ্ন ভোজ।
লায়ন্স ক্লাব : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, লায়ন্স জেলা ৩১৫– বি ৪ বাংলাদেশের উদ্যোগে বাংলা বর্ষ বরণ অনুষ্ঠান আজ সকাল সাড়ে আটটা থেকে জাকির হোসেন রোডস্থ সিএলএফ গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে লায়ন সদস্যদের উপস্থিত থাকার জন্য কেবিনেট সেক্রেটারি লায়ন জাফর উলহ্মাহ চৌধুরী অনুরোধ জানিয়েছেন।
অভয়মিত্রঘাটেও থাকছে আয়োজন : কর্ণফুলীর অভয়মিত্র ঘাট এলাকায়ও পহেলা বৈশাখকে ঘিরে নানা আযৈাজন থাকছে। ফিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব অনুষ্ঠানে সকলকে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, বিগত বছরের ন্যায় বাঙালির সর্ববৃহৎ উৎসবকে ঘিরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ (আইইবি), চট্টগ্রাম কেন্দ্রে: আজ কেন্দ্রের শহীদ প্রকৌশলী শামসুজ্জামান-শহীদ প্রকৌশলী নুর হোসেন মিলনায়তনে বৈশাখী খাদ্য ও পিঠা মেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৮:০০টায় নববর্ষের শুভেচ্ছা, সকাল ৯:০০ টায় বৈশাখী খাদ্য ও পিঠা মেলার শুভ উদ্বোধন, প্রকৌশলী, প্রকৌশলী গৃহিণী/স্বামী ও সন্তানদের চিরন্তন বাঙালি সাজের প্রতিযোগিতা, সকাল ৯:১৫ মিনিটে আলপনা আঁকা প্রতিযোগিতা (প্রকৌশলী গৃহিনী ও কন্যা সন্তান), সকাল ৯:৩০ মিনিটে বৈশাখী খাদ্য মেলার স্টলসমূহ বর্তমান নির্বাহী ও প্রাক্তন নির্বাহী কর্তৃক পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়, সকাল ৯:৫০ মিনিটে শুভেচ্ছা বক্তব্য, সকাল ১০:১০ মিনিটে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বেলা ১১:০০টায় লোকজ গান, দুপুর ১২:০০টায় পুরস্কার বিতরন। বাংলা নববর্ষ-১৪২৫ এর অনুষ্ঠানে সপরিবারে অংশগ্রহণের জন্য কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক সকল সম্মানিত প্রকৌশলীদের অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজের সাবেক ভিপি ও চারু শিল্পি মাহবুবুর রহমান চৌধুরী জানান পহেলা বৈশাখ অথাৎ বাংলা নববর্ষকে ঘিরে যে সব আয়োজন নিহিত ছিল তা এখন আর চোখে পড়েনা। গ্রাম কেন্দ্রিক নৌকা বাইচ, গ্রামীন খেলা, বলিখেলা, কাবাড়ি, পানি উৎসব,চাউলের তৈরী বিভিন্ন পিঠা, দেশীয় ফলমূলের রান্না । উপজাতীয়দের রং ছিঠানো, নদীতে নৌকা ভাসানো, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোজন কাদা মাটি শরীরে মাখিয়ে খেলা, ভোরে নারীরা দল বেধেঁ ফুল তুলতে যাওয়া ইত্যাদি এগুলো এখন আর চোখে পড়েনা। নানা উৎসব ও প্রচারনার মাধ্যমে বাঙ্গালীর এ রীতি গুলো ধরে রাখা প্রয়োজ।
আন্দারকিল্লার পুস্তক প্রকাশ ও ব্যবসায়ী এমডি কলিম উল্লাহ জানান পহেলা বৈশাখ মানে আমরা মনে করতাম খালহাতা বা বকেয়া আদায়, খাজানা উঠানো, ফসল ঘরে তোলা, ইত্যাদি। এসব কাজে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই এবং রিয়াজ উদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ীরা নানা অনুষ্টান মালার আয়োজন করত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে তা আজ হারিয়ে গেছে।
