কালুরঘাট-পতেঙ্গা ৩০ কি.মি. পাইপ লাইন বসানোর চুক্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটি নিউজ :: চট্টগ্রাম ওয়াসার মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্পের কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার পাইপ লাইন নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে। প্রকল্পের অর্থ যোগানদাতা বিশ্বব্যাংকের অতিরিক্ত ৩৮০ কোটি টাকার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর প্রকল্পের এই প্যাকেজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে বুধবার (১০ মে) চট্টগ্রাম ওয়াসার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রেডিসন ব্লু চিটাগং বে ভিউতে চট্টগ্রাম ওয়াসার সাথে ঠিকাদারের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।
কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মধ্যে ১৫ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন পাইপ লাইন এবং ১৫ কিলোমিটার ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে বলে জানান এই প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২০ সালে।
‘চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইম্প্রুুভমেন্ট এন্ড সেনিটেশন’ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম ওয়াসার মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এই প্রকল্পের প্যাকেজ ডব্লিউ–৫ কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা বুস্টার পাম্প স্টেশন পর্যন্ত সঞ্চালন মেইন ও আনুষঙ্গিক বিতরণ পাইপলাইন নির্মাণ কাজের জন্য ঠিকাদারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা একের পর এক যেভাবে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে তাতে আগামীতে আমাদের পানির সংকট আর থাকবে না। চট্টগ্রাম মহানগরীতে পানির সংকট অনেক দিনের। চট্টগ্রাম ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি অনেকগুলো প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এটা আমাদের জন্য অনেক সুখের খবর।
শুরুতেই বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ. কে. এম ফজলুল্লাহ। তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে বাঁচাতে হলে সবার আগে কর্ণফুলী ও হালদাকে বাঁচাতে হবে। এই দুটি নদী হলো চট্টগ্রামের প্রাণ। এই দুটি নদী যদি দূষিত হয় তাহলে আমরা মিঠা পানি পাবো না।
আগামী জুনে মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্প থেকে প্রতিদিন ৯ কোটি লিটার পানি নগরবাসী পাবে বলে জানিয়েছেন উপ প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ–ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) গোলাম হোসেন ছাড়াও ঠিকাদারদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড বাংলাদেশের প্রকৌশলী আতিকুর রহমান। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপ– ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জহুরুল হক, সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেল, প্রকল্প পরিচালক (সিডব্লিউএসআইএসপি) মোহাম্মদ নুরুল আবছার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পিএন্ডসি) ও উপ–প্রকল্প পরিচালক (সিডব্লিউএসআইএসপি) মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
ঠিকাদারের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ফলগু সন্ধানী লিমিটেড, বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আকরাম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী সবুর, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড বাংলাদেশের প্রকৌশলী এমদাদুল হক, এস ডব্লিউ ই জি, চায়নার তিয়াং তাও, প্রকৌশলী মাহফুজ হক, সুলতান মাহমুদ বাবু, নাহিদ খান ও প্রকৌশলী আহসান হাবিব।
মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্পে প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক দেয়ার কথা ছিল ৯৭২ কোটি টাকা। পরে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ১ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। অবশিষ্ট টাকা সরকার দিবে। সুতরাং বিশ্বব্যাংকের অবশিষ্ট ৩৮০ কোটি টাকায় কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা পাইপ লাইন নির্মাণ হচ্ছে।
এই ব্যাপারে উপ প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম আজাদীকে জানান, এই প্রকল্পের আওতায় নগরীতে ১৩৫ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন পাইপ লাইন বসানো হচ্ছে। দুটি প্যাকেজে ইতোমধ্যে ১০৫ কিলোমিটার পাইপ লাইনের কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ৩০ কিলোমিটার পাইপ লাইনের কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে গতকাল বুধবার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্পের পানি এসে প্রথমে ঢুকবে কালুরঘাট বুস্টার স্টেশনে। সেখান থেকে পাম্পিং করে অর্ধেক পানি নিয়ে যাওয়া হবে নগরীর উত্তর–পূর্বাংশে–চান্দগাঁও–মোহরা, বাকলিয়া–ডিসি রোড, খাজা রোডসহ অন্যান্য এলাকায়। অপর অর্ধেক পানি সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে পতেঙ্গা এলাকায়। পতেঙ্গা এলাকায়–নেভী, ইপিজেডসহ সরকারি– বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানসহ গ্রাহকদের মাঝে এই পানি সরবরাহ দেয়া হবে।
