জাহেদুল হক,আনোয়ারা : আনোয়ারা উপজেলার বেশিরভাগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কগুলোর সংস্কার কাজ করার বছর যেতে না যেতেই খানা খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। এসব সড়ক দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলাও মুশকিল। অন্যদিকে সংস্কারবিহীন এসব সড়ক দিয়ে ট্রাক-ট্রাক্টরের অবৈধভাবে মাটি পরিবহনের কারণে আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
নিম্নমানের কাজের ফলে এক-দেড় বছরের মধ্যে একেকটি সড়ক যেন নর্দমা আর ডোবায় পরিণত হয়েছে। খানাখন্দ আর কাদায় ভরা এসব সড়কে চলাচল করতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জানা যায়,সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) সড়কের মধ্যে উপজেলার শাহ্ মোহছেন আউলিয়া সড়ক,আনোয়ারা-বরকল সড়ক ও আনোয়ারা-মুরালী সড়কের অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। এসব সড়কের বড় বড় গর্তে পানি জমেছে।
এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বারশতের বখতেয়ার সড়ক,বটতলী রুস্তমহাট-ছুরুতবিবি সড়ক,বারখাইন জান আলী সড়ক ও মালঘর জামে মসজিদ সড়কের অবস্থাও বেহাল। পাশাপাশি সিইউএফএল সড়কও চলাচলের অনুপযোগী। সড়কগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ যে,এসব সড়কে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা,সাধারণ মানুষের হেঁটে চলার কোনো উপায় নেই।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা উপজেলার রুস্তমহাট-ছুরুতবিবি সড়কের। বছর খানেক আগে সড়কটি সংস্কার করা হলেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় বর্তমানে এটি জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। একই অবস্থা উপজেলার সিইউএফএল সড়ক,আনোয়ারা-বরকল সড়ক ও মোহছেন আউলিয়া সড়কসহ বেশিরভাগ সড়কের।
অধিকাংশ নালা নর্দমা দখল করে বাড়ি ঘর নির্মাণ ও ভরাট করে ফেলায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। অল্প বৃষ্টিতেই পানিতে থৈ-থৈ করে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে। এ ঘটনা নিত্যদিনের হলেও নিস্তার পেতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী তসলিমা জাহান বলেন,বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর প্রাক্কলন তৈরি করে নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর পাঠানো হয়েছে। তবে মালঘর জামে মসজিদ সড়কের সংস্কার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
জানতে চাইলে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো.শাখাওয়াত হোসেন জানান,ইতোমধ্যে আনোয়ারা-বরকল সড়কের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মোহছেন আউলিয়া ও মুরালী সড়কের প্রাক্কলন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই টেন্ডার আহবান করা হবে।
