বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা বহুজন পাঠ করেছেন- তথ্যমন্ত্রী

0

গোলাম সরওয়ার,সিটি নিউজ : চট্টগ্রাম নগরে তারুণ্যের ভাবনায় আওয়ামী লীগ’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন,‘স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করা আর ঘোষণা দেয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়েছিলেন, সে ঘোষণা বহুজন পাঠ করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন,বেতারের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ প্রথম পাঠ করেন তৎকালীন অবিভক্ত চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম. এ. হান্নান। এরপর চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতারা সিদ্ধান্ত নেন সেনাবাহিনীর অফিসার দিয়ে পাঠ করানোর, তখন জিয়াউর রহমানকে দিয়ে ২৭ মার্চ তা পাঠ করানো হয়। এছাড়া ২৬ মার্চ নিজের জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী নূরুল হক শহরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন। নূরুল হকের মতো আরো অনেক মানুষ তখন সারাদেশে মাইকিং করে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন।

মঙ্গলবার ৩০ জুলাই দুপুরে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির উদ্যোগে ‘গৌরবের অভিযাত্রায় ৭০ বছর : তারুণ্যের ভাবনায় আওয়ামী লীগ’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনা সভায় প্যানেল আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সাথে প্যানেল আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খাঁন ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যারা এই বিতর্ক তৈরী করেছে তারা ইতিহাস বিকৃত করতে চায়। তবে মানুষ এখন প্রকৃত ইতিহাস জেনে গেছে। এরপর কেউ কেউ উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলার চেষ্টা করে। এ অবস্থায় পাঠচক্র করে নতুন প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাস জানানোর জন্য ছাত্রলীগ উদ্যোগ নিতে পারে।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অসাধারণ নেতৃত্বে উন্নয়ন ও অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বে বাঙালির পরিচয় বদলে দিয়েছেন’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বে দল চারবার ক্ষমতায় এসেছে। উন্নয়ন ও অর্জনের মাধ্যমে তিনি দেশকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

এসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর প্রশ্ন ‘স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ বিভ্রান্তি ছড়ান- এবিষয়ে সরকারের কোন পদক্ষেপ আছে কিনা ?’ -এর জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন ‘স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্কটা শুরু হয় মূলত জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর। নিজে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এমন দাবী জিয়াউর রহমান জীবদ্দশায় কখনো করেননি। বিএনপি যেভাবে বলে, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক, আমার মনে হয় কবরের মধ্যে যদি জিয়াউর রহমান এমন মিথ্যাচার শুনতে পেতেন, সেখানেও তিনি লজ্জা পেতেন।’

মন্ত্রী বলেন,আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অর্জন বাঙালি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরই প্রথম নিজেদের শাসন করার অধিকার পায় বাঙালি। আর দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনন্য নেতৃত্বে দল চারবার ক্ষমতায় এসেছে এবং দেশ বিশ্বে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এরপর আরেকজন শিক্ষার্থীর ক্ষমতার প্রভাব ও সু শাসনের অভাব প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ‍উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন,প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা কারিশমাটিক লিডার।যেকোনো বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং ক্ষমতা এককেন্দ্রিক কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে এইচ টি ইমাম এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা একজন কারিশমাটিক লিডার। শেখ হাসিনার ব্যক্তিত্ব পুরোপুরো বঙ্গবন্ধুর মতোই। পিতার সকল গুণই তিনি পেয়েছেন। কিছুক্ষেত্রে তিনি তার পিতাকেও ছাড়িয়েছেন। সবাই ভাবেন- তিনি হয়তো সব ক্ষমতার উৎস। মন্ত্রীরা নিজেরা কাজ করেন, তার অধীনস্ত বিভাগ কাজ করে। এভাবে বিকেন্দ্রীকরণ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও দিয়ে দিয়েছেন।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন রাস্তা তৈরি করে, অন্যদিকে ওয়াসা কাটে: অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।নগরের বিভিন্ন সড়ক মেরামতের অল্প কিছুদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসা তা কেটে ফেলে বলে অভিযোগ করেছেন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা। উন্নয়নকাজে সমন্বয়হীনতা কেন শিক্ষার্থীরা এমন প্রশ্ন রাখেন চট্টগ্রাম মেয়রের কাছে।

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সমন্বয়হীতার কথা স্বীকার করে বলেন,‘ উন্নয়নে ওয়াসাসহ সরকারী ৩২টি সেবা সংস্থার সমন্বয়হীতা রয়েছে। সমস্যা হলো- তারা প্রকল্প নেওয়ার সময় বা বাস্তবায়নের সময় সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করেন না। আর উন্নয়ন কাজে তো আমরা বাধা দিতে পারি না।’সমন্বয়হীনতা দূর করতে কাজ করছেন বলে জানান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগকে কীভাবে দেখতে চান, সে বিষয়ে নানা প্রশ্ন করেন অনুষ্ঠানে। মঞ্চ থেকে প্যানেল বক্তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে নানা বিষয়ের প্রশ্নের জবাব দেন আলোচকরা।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.