গোলাম সরওয়ার, সিটি নিউজ : চট্টগ্রামে নথি জালিয়াতির কারণে আনোয়ারা উপজেলা বৈরাগ ইউনিয়নের একটি পরিবার হয়রানির শিকার হয়েছে প্রশাসনের কাছে।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) আনোয়ারা উপজেলা বৈরাগ ৯ নং ওয়ার্ড থেকে গভীর রাতে জেএসসি পরীক্ষার্থী মো: মোরশেদ(১৩),খুরশিদা বেগম(মা),জাকের হোসেন (বাবা)কে যৌতুক এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ১১৫/২০২০ এর মামলার ওয়ারেন্টে আনোয়ারা থানা পুলিশ গ্রেফতার করেন।
যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলায় পরের দিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তাদের আদালতে হাজির করলে ট্রাইব্যুনাল-১ ঐ পরিবারকে মুক্তি দেন এবং অপর দুই জনের জন্য রি-কল পাঠান।
নারী ও শিশু ট্রাইবুন্যালে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে এক ভুক্তভোগী নারীর করা মামলার নথিতে ভিন্ন একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও স্মারক নাম্বার চলে আসার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই নারীর করা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যুপূর্বক আদালতে হাজির করা হয়।
গতকাল নারী ও শিশু ট্রাইবুন্যাল-১ বিচারক মো. মশিউর রহমান খানের আদালতে আনোয়ারা থানার একটি মামলায় (নং-১৯২/২০ইং) এই ঘটনাটি ঘটেছে।
পরে নথি পর্যালোচনাপূর্বক আদালতে ভুলটি ধরা পড়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে জারি করা ওয়ারেন্ট আদেশ বাতিলের পাশাপাশি তাদের মুক্তি দেয়া হয় বলে জানান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল-১’র বেঞ্চ সহকারী মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়,গত ১৪ জুলাই আনোয়ারা বৈরাগ ইউনিয়নে সাইমা সুলতানা সাকি যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে তার স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, ননদ ও দেবরের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
পরে আদালত অভিযোগের বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য সমবায় কর্মকর্তা আনোয়ারাকে নির্দেশ দেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি পরবর্তীতে ওই মামলার নথিতে অন্তুর্ভুক্ত হয়।
সাইমা সুলতানা সাকির মামলার নথির সাথে থাকা তদন্ত প্রতিবেদনে আদালত পর্যালোচনা করে দেখেন প্রতিবেদনটি নারী ও শিশুর আরেকটি মামলার (নং-১৫৫/২০ ইং) প্রতিবেদন। ওই অনুসন্ধান প্রতিবেদনের স্মারক নাম্বারের(১৯২/২০ইং) সাথে সাইমা সুলতানা সাকির করা মামলা নাম্বারের (নং-১৯২/২০ ইং) মিল পাওয়া যায়।
তবে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে অভিযোগকারিনী ও আসামিদের নাম উল্লেখ ছিল না।
আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে অসাবধানতাবশত অনুসন্ধান প্রতিবেদনের সূত্রের স্মারক নাম্বারকে মামলার নাম্বার মনে করে তার ভিত্তিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাইমা সুলতানার করা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করেন।
এই পরোয়ানা মূলে পাঁচ আসামির মধ্যে মো. মোরশেদ, জাকের হোসেন ও খুরশিদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে গতকাল নারী ও শিশু ট্রাইবুন্যাল-১ হাজির করেন।
আদালত বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি সাইমা সুলতানা সাকির করা মামলাটির নয়। সাকির করা মামলাটির অনুসন্ধান প্রতিবেদন এখনো জমা হয়নি।
এতে আদালত গত ২৯ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে করা ওয়ারেন্ট আদেশ রদ করেন। সেই সাথে আসামিদের মুক্তি দিয়েছেন। বৃৃৃৃৃহস্পতিবার নির্ধারিত দিনে আদালতে আসামিদের হাজির করেন আনোয়ারা পুলিশ।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, কেন তাদের এই নির্যাতনের শিকার হতে হলো। শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আদালতে নথি জালিয়াতি কিভাবে হয়? বুুুুুধবার গভীর রাতে আনোয়ারা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে রাতভর থানায় রাখেন। এছাড়া এই মামলায় মোরশেদ নামে আট বছরের এক শিশুকে আসামি দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছিল। অথচ সাকির করা যৌতুকের নির্যাতনের মামলায় মোরশেদ নামে ২ নম্বর আসামির বয়স দেখানো হয়েছে ১৮ বছর। গতকাল মোরশেদ নামে যাকে আসামি দেখিয়ে আদালতে আনা হয়েছে সে এবার জেএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।
