মোরশেদ রানা, সৌদি প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম চট্টগ্রাম মহানগরীর মোহরা ওয়ার্ডের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তিনি ১৯৫১ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলার চান্দগাঁও থানার মোহরা ওয়ার্ডের হামিদ জমিদারের বাডির এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম হাজী আবদুর রশিদ ও মা মাবেয়া বেগমের বড় ছেলে আবদুস ছালাম। সৎ ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক হিসেবে তাঁর সুনাম সুবিদিত।
তাঁর শিক্ষা জীবনও উজ্জ্বল হয়ে আছে বেশ কিছু কৃতিত্বের স্বাক্ষরে। সাফল্যের সঙ্গে কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭১ সালে বানিজ্য বিভাগে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১১তম স্থান অধিকার করে স্নাতক এবং ১৯৭৩ সালে ২০তম স্থান অধিকার করে হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। শিক্ষা জীবন শেষ করেই ব্যবসাকে উনি পেশা হিসাবে বেছে নেন।
সততা ও কঠোর পরিশ্রম কে পূঁজি করে বর্তমানে ওয়েল গ্রুপ অফ ইন্ডাষ্ট্রিজ এর চেয়ারম্যান হিসাবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। ইতোমধ্যেই তিনি শিল্পখাতে অবদানের জন্য নবাব স্যার সলিমুলাহ স্বর্ণপদক লাভ করেছেন। তার ১৮ টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৮০০০ কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োজিত আছেন। দেশের নেতৃস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠি ওয়েল গ্রুপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণ পুরুষ আবদুচ ছালাম এর জীবন রাজনৈতিক অঙ্গিকার ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। চট্টগ্রাম মহানগরের মোহরা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের এক পর্যায়ে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব বিশেষ করে বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী’র দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাঁরই একান্ত আগ্রহ ও ইচ্ছায় মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অভিষিক্ত হনআব্দুচ ছালাম। তাঁকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদে অন্তর্ভুক্ত করেন। চট্টগ্রাম মহানগরের রাজনীতিতে এক নতুন নেতৃত্বের প্রতিষ্ঠা ঘটে, যাঁর নাম আবদুচ ছালাম। এর পর থেকেপ্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসেন আবদুচ ছালাম।
চট্টগ্রামের উন্নয়নের লক্ষ্যে আবদুচ ছালামকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত ২৩শে ফেব্রুয়ারী ২০০৯ সালে প্রথম বারের মত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসাবে নিযুক্ত করেন। এই পদে আসীন হওয়ার পর থেকে চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য কাজ করার প্রতিদান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা আবদুচ ছালামকে একটানা ৪ বার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসাবে নিযুক্ত করেন।চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিজ অথয়নে বহদ্দারহাট থেকে মুরাদ পুর ও দেওয়ান হাট থেকে কদমতলীর পযন্ত দুইটি উড়াল সড়ক নির্মান করেন। দুইটি উড়াল সড়ক উদ্ধোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোয়া পাঁচ কিলোমিটারের নতুন আরেকটি উড়াল সড়কনির্মান কাজ শুরু করা হয়েছে। যেটি মুরাদপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত। ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল সড়কটিই হবে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ উড়াল সড়ক।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম সাম্প্রতিক পবিত্র মক্কায় হজ্ব পালন করতে আসলে গত ২৬ সেপ্টম্বর হোটেল জমজমে মুখোমুখি হয় সিটিনিউজবিডি।
সিটিনিউজবিডি : চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে উড়াল সড়ক নির্মান কাজ শেষে নগর উন্নয়নের আপনার পরবতি পরিকল্পনা কি ?
আব্দুচ ছালাম : মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানে চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন কাজ দ্রুত
এগিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ অন্তরিক। তিনি নিজেই চট্টগ্রামের উন্নয়ন মূলক কাজের খোঁজ খবর রাখেন। তাই তারই নিদের্শে ২০২১ সালের মধ্যে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক শহর হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি করার লক্ষে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সড়ক উন্নয়নও ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসনের জন্য ইতি মধ্যে প্রাইমারী সেকেন্ডারী, টারশিয়ারী রোড নির্মঠু করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, সিডিএ এভিনিউ, চিটাগং আউটার রিং রোড, সদরঘাট -ফিরিঙ্গিবাজার রোড, নবাব সিরাজদ্দৌল্লা রোড,দেওয়ান হাট থেকে পাহাড়তলী ইত্যাদি। এছাড়া যানজট নিরসনে জন্য বহদ্দারহাট থেকে মুরাদ পর, দেওয়ান হাট থেকে কদমতলী পর্যন্ত উড়াল সড়ক নির্মান করার হয়েছে। মুরাদ পুর থেকে এয়ার পোট পর্যন্ত সোয়া পাঁচ কিলোমিটারের নতুন আরও একটি উড়াল সড়ক নির্মান কাজ ইতি মধ্যে শুরু হয়েছে।
সিটিনিউজবিডি : চট্টগ্রামে জলবন্ধাতা নিরসনে আপনকি কোন উদ্যোগ গ্রহন করেছেন কি ?
আব্দুচ ছালাম : চট্টগ্রামে জলবন্ধাতা নিরসনে বিভিন্ন পদেক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। যা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেনের সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে কর্ণফুলীর প্রতিটি কালের মূখে সুইস গেট ও অস্থায়ী বাঁধ নিমার্ণ করা।
সিটিনিউজবিডি : উড়াল সড়ক নির্মান ছাড়া কোন কোন খাতে আপনি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে ?
আব্দুচ ছালাম : আবাসন সমস্যা নিরসন:চউক চট্টগ্রামের আবাসন সমস্যা নিরসনের ক্ষেত্রে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, ইতোমধ্যে ৭০০০ এর অধিক পল্ট বিভিন্ন পেশা/শ্রেণীর জনগণের মাঝে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এ সকল আবাসিক এলাকায় উন্মুক্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন এপোলো হসপিটাল, দিল্লী পাবলিক স্কুল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানকে তাদের কার্যক্রম শুরু করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়াও আবাসিক সমস্যা নিরসন এবং ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসারনের জন্য চউক ইতোমধ্যে বেশ কিছু গরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে যেমন: বিশতলা বিশিষ্ট আবাসিক কাম বানিজ্যিক ভবন নির্মাণ (কাজিরদেউরী কাচা বাজার এলাকা), ইএগঊঅ ও ঈউঅ এর যৌথ উদ্যোগে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ডরমেটরী নির্মাণ এবং স্বল্প আয়ের জনসাধারণের জন্য ২৫, ২২, ২০ তলা বিশিষ্ট তিনটি (প্রায় ১৯৬ টি ফ্ল্যাট) আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।বানিজ্যিক ও শিল্প এলাকার উন্নয়ন:বানিজ্যিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য চউক ইতোমধ্যে বেশ কিছু বানিজ্যিক শিল্প এলাকার উন্নয়ন সাধন করেছে। যেমন, পাঠানটুলী মার্কেট, কর্ণফুলী মার্কেট, নিউমার্কেট, ষোলশহর মার্কেট, কালুরঘাট শিল্প এলাকা, ফৌজদারহাট শিল্প এলাকা, ইত্যাদি।পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন:চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পের বিকাশ সাধনে চউক ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যেমন- বাটার ফ্লাই পার্ক, নান্দনিক ডিসি হিল পার্ক, সি আর বি ল্যান্ডস্কেপ উন্নয়ন।অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অংশীদারী ভিত্তিক চউক পরিকল্পনাঃঅবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জাতিসংঘের গউএ বাস্তবায়নকল্পে চউক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্ত-বায়নের মাধ্যমে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী চউক নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি সরকারী অর্থায়ন, চচচ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (যেমন- জাইকা) ইত্যাদির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
সিটিনিউজবিডি : চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের শীষ স্থানীয় নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে এ কথা বিভিন্ন মহলে শুনা যাচ্ছে, এবিষয়ে আপনি কি বলবেন ?
আব্দুচ ছালাম : চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন মতবিরোধ নেই। দলীয় কর্মসূচিসহ নগর উন্নয়নে নগর কমিটির নেতাকর্মীরা এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এক কথায় দলের মধ্যে কোন মতবিরোধ নেই রয়েছে ঐক্য।
সিটিনিউজবিডি : সৌদিআরব প্রবাসি বাংলাদেশিদের উদ্দ্যেশ্যে কিছু বলবেন ?
আব্দুচ ছালাম : শুধু সৌদিআরব না,মধ্যপ্রচ্য সহ সকল প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সাহায্য করছেন। সরকার এবং আমার ব্যাক্তিগত পক্ষ থেকে তাদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাশাপাশি প্রবাসে অবস্থান রত সকল ভাই বোনদের অনুরোধ জানাচ্ছি বিদেশের মাঠিতে এমন কিছু করবেন না যাতে নিজেদের এবং দেশের সুনাম ক্ষুন্ন হয়।
