অর্থবাণিজ্য ডেস্ক : ৩ নভেম্বর থেকে আগামী এক মাস পর্যন্ত সকল প্রকার কাঁচাপাট রফতানি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তে নাখোশ ব্যাবসায়ীরা। তাদের অভিমত, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাঁচাপাট রফতানি বন্ধ করেছে সরকার। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হবে। এ ক্ষতি পুষিয়ে দিলে ব্যবসায়ীদের কোনো অভিযোগ থাকবে না।
বাস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বেবী পারভীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সোমবার দুপুরে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। যদিও রবিবার প্রজ্ঞপনটি জারি করার জন্য স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
প্রজ্ঞপনে উল্লেখ রয়েছে, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ এর সঠিক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাট অ্যাদেশ ১৯৬২ এর ৪ ও ১৩ ধারা মোতাবেক যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আগামী ৩ নভেম্বর থেকে এক মাস পর্যন্ত সকল প্রকার কাঁচাপাট রফতানি বন্ধ রাখা হল। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হল।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) সাবেক চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সদস্য মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘এক মাস কাঁচাপাট রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তে সুফল ও কুফল উভয়ই রয়েছে। তবে বাস্তবতা হল- আচমকা এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। এতে ব্যবসায়ীদের অনেক আর্থিক ক্ষতি হবে। তবে এ ক্ষতি সরকারের পক্ষ থেকে পুষিয়ে দিলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ থাকবে না।’
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে পাঁচ বছর ধরে গড়ে প্রতি বছর ৭৮ লাখ বেল পাট উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে ১৭ লাখ বেল কাঁচা পাট হিসেবে রফতানি হয়। রফতানিকৃত এ সব পাট থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আয় করে বাংলাদেশ। তবে মধ্যসত্বভোগীরা কাঁচাপাট মজুদ করায় বাজারে পাটের সঙ্কট দেখা দেয় এবং দাম বৃদ্ধি পায়। তাই মধ্যসত্বভোগীদের কাছ থেকে মজুদ করা কাঁচাপাট বাজারে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ভারতে কাঁচা পাট রফতানির পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৯৩ হাজার বেল। পরের অর্থবছর তা নেমে আসে ২ লাখ ৩৪ হাজার বেলে। একই চিত্র পাকিস্তানে রফতানির ক্ষেত্রেও। দেশটিতে ২০১২-১৩ অর্থবছর কাঁচা পাট রফতানি হয় প্রায় ৫ লাখ ৪৬ হাজার বেল। পরের অর্থবছর তা ছিল ৩ লাখ ৩৭ হাজার বেল। সার্বিকভাবে দেশ দুটিতে রফতানি কমে আসায় প্রভাব পড়েছে মোট রফতানিতে। ফলে এ খাত থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেন বেশকিছু ব্যবসায়ী। ২০১১-১২ অর্থবছর ১৬৮টি প্রতিষ্ঠান কাঁচা পাট রফতানি করলেও ২০১৩-১৪ অর্থবছর রফতানি করেছে মাত্র ৯২টি প্রতিষ্ঠান। ২০১১-১২ অর্থবছর ২৩টি দেশে ২২ লাখ ৮৪ হাজার বেল কাঁচা পাট রফতানি হলেও ২০১২-১৩ অর্থবছর ১৪৩টি প্রতিষ্ঠান ২০টি দেশে ২০ লাখ ৫৫ হাজার বেল পাট রফতানি করে। ২০১৩-১৪ অর্থবছর মাত্র ৯২টি প্রতিষ্ঠান ২০ দেশে ৯ লাখ ৮৪ হাজার বেল পাট রফতানি করে।
কাঁচা পাট রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) তথ্যমতে, দেশের ৯০ শতাংশের বেশি কাঁচা পাট রফতানি হয় ভারত, পাকিস্তান ও চীনে। এ ছাড়া ভিয়েতনাম, কিউবা, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, নেপাল, গুয়াতেমালা, জিবুতি, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ব্রাজিল, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া, আইভরিকোস্ট, ইরান, যুক্তরাজ্য, স্পেন, এলসালভাদর, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও আরব আমিরাতেও পণ্যটি রফতানি হয়। তবে তিন বছর আগেও যেখানে প্রতি অর্থবছর গড়ে ২২-২৩ লাখ বেল কাঁচা পাট রফতানি হয়েছিল, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের কারণে এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত মাসে ভারত সরকারের শর্তারোপ এ খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
