অর্থবাণিজ্য ডেস্ক :: পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কারিগরি শিক্ষা প্রদানে দ্বিতীয়বারের মতো সহায়তা বাড়াচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সী (সিডা) প্রথমে ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা দিলেও পরে এটা বাড়িয়ে ৭৭২ কোটি ৯ লাখ ৭ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে দ্বিতীয়বারের মতো সহায়তা বাড়াচ্ছে বিশ্বব্যাংক। ফলে এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৭৭৮ কোটি ২ হাজার টাকা। আর দুই উন্নয়নসহযোগী সংস্থার ঋণ ও অনুদান মিলে মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ কোটি ৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গৃহীত ‘স্কিল অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ (এসটিইপি) বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৭৮২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। বিশ্বব্যাংক ও সিডার সহায়তার বাইরে ২৩২ কোটি ৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয় করা হচ্ছে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।
প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব পরিস্থিতির আলোকে দেশে ও বিদেশে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু দেশের বিদ্যমান কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলো এ চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করতে পারছে না। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রয়েছে শিক্ষক স্বল্পতা,যন্ত্রপাতির অভাব ও অপ্রতুল অবকাঠামো ইত্যাদি। এসব বিবেচনায় সুনিদিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতে নির্বাচিত ডিপ্লোমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যথা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং এসএসসি ভোকেশনাল কার্যক্রমে যথাযথ সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্বব্যাংক এবং সরকারী তহবিলের অর্থায়নে ৬৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি ২০১০ সালের ৮ জুন জাতীয় অর্থনেতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন লাভ করে। পরবর্তীতে কানিাডিয়ান সিডা থেকে প্রাপ্ত অনুদান হিসেবে ১৩৪ কোটি ৭২ লাখ ১৯হাজার টাকা প্রকল্পে অর্ন্তভুক্ত হওয়ায় এবং পরিবর্তিত মুদ্রা বিনিময় হারের কারণে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব একনেকে পাশ হয়। সে সময় মেয়াদ একবছর বাড়িয়ে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। সর্বশেষ প্রকল্পটি কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখছে বিবেচনায় বিশ্বব্যাংক অতিরিক্ত ১০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়। ফলে প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এ প্রস্তাবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রকল্পটির আওতায় যোগ্য হিসেবে বিবেচিত সরকারি ও বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কম-বেশি ৫০ শতাংশকে আর্থ-সামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে বৃত্তি দেয়া হয়ে থাকে।
এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুণগতমান বাড়ানো হচ্ছে। ফলে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারে প্রশিক্ষণার্থীসহ সকল প্রশিক্ষণার্থীকে কারিগরি শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সেই সাথে ‘ইন্ডাষ্ট্রি স্কিল কাউন্সিল’ ও ‘ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল’ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা প্রদান এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সার্বিকভাবে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ শক্তিশালী হচ্ছে। এছাড়া কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সংস্থা যেমন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং জনশক্তি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর কার্যক্রম জোড়দার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি। একনেকে সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন হলেই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। প্রকল্পটির সফলতার পথ ধরেই উন্নয়নসহযোগিরা তাদের সহায়তা বাড়াচ্ছে। এ প্রকল্পটির মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত হচ্ছে। এতে মানব সম্পদ তৈরি হচ্ছে, যা মধ্য আয়ের দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার সার্বিকভাবে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ করে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করছে। সরকার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভকেশনাল এডুকেশন এন্ড ট্রেনিং খাতকে ফোকাস খাত হিসেবে গণ্য করছে। যাতে দেশে ও বিদেশে চাহিদা আছে এমন খাতে দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জনশক্তি যোগান দেয়া যায়। এ লক্ষ্যে সরকার উন্নয়নসহযোগী সংস্থার সহায়তা কাজে লাগাতে বিশেষ আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
