অর্থ ও বাণিজ্য : দাম বৃদ্ধির সাত মাস পর আবার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গ্রাহকভেদে গ্যাসের দাম ৬৬ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো।
গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রস্তাব জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসিতে পাঠানো হয়েছে বলে পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে দাম বৃদ্ধির এ প্রস্তাবকে আইনিসিদ্ধ নয় বলে তা গ্রহণ না করতে কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর নতুন উদ্যোগকে আইনসিদ্ধ নয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, বিইআরসি আইন অনুসারে একবার দাম বাড়ানোর এক বছরের মধ্যে নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ নেই। নতুন প্রস্তাবে গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে দুই চুলার (ডাবল বার্নার) এক মাসের বিল ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৬৫০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা করার আবেদন করা হয়েছে। আর এক চুলার (সিংগ্যাল বার্নার) মাসিক চার্জ ৮৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০০ টাকা থেকে এক হাজার ১০০ টাকা করতে বলা হয়েছে।
তবে যেসব আবাসিক গ্রাহক মিটার ব্যবহার করেন তাদের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৭ টাকা থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৬ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর শিল্প কারখানার ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৬ পয়সা থেকে ১৯ টাকা ২৬ পয়সা করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবে অন্যান্য খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের দামও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ঘনমিটার প্রতি গ্যাসের মূল্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ টাকা ৮২ পয়সা থেকে ৬৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৪ টাকা ৬০ পয়সা, কারখানার বয়লারের জন্য ৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে ৮২ শতাংশ বাড়িয়ে ১০ টাকা ৪৫ পয়সা, বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৭২ শতাংশ বাড়িয়ে ১১ টাকা ৩৬ পয়সা থেকে সাড়ে ১৯ টাকা এবং সার কারখানার জন্য ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি করে ২ টাকা ৮২ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৪১ পয়সা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটারের ৩৫ টাকা থেকে ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৫৮ টাকা নির্ধারণের আবেদন করা হয়েছে। পেট্রোবাংলা বিদেশি কোম্পানিগুলোর থেকে অধিক দামে গ্যাস কিনছে কিন্তু বিতরণ কোম্পানির কাছে তা কম দামে দিতে হচ্ছে। আর সে কারণেই গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন বলে প্রস্তাবগুলোতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও ২০১৭ সাল থেকে নতুন জ্বাললানি হিসেবে দেশে এলএনজির ব্যবহার শুরু হতে পারে, এটিও দেশের সার্বিক জ্বালানির মূল্যর ওপর প্রভাব ফেলবে। কারণ দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় এলএনজির দাম বেশি পড়বে।

Comments are closed.