অর্থ ও বাণিজ্য : ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য সার্বক্ষণিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পসহ ৬ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক)।
এসব প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৯৫০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ৪ হাজার ১৪৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, আর প্রকল্প সাহায্য পাওয়া যাবে ২ হাজার ৬৬১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (২৪ মে) দুপুরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। বর্তমান সরকারের মেয়াদে এটি ৭৭তম একনেক সভা। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা শহরের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঢাকা ওয়াসা পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প যেমন এডিবি অর্থায়নে ‘ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (ডিইএসডব্লিউএসপি) গ্রহণ করা হয়।
মন্ত্রী আরো বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে পানির অপচয় কমেছে, সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। গ্রাহক সংযোগ মিটার ভিত্তিক করা এবং অবৈধ সংযোগ বৈধ করা, গ্রাহকের সাক্সসান পাম্পের ব্যবহার যথেষ্ট পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়েছে এবং প্রকল্প এলাকার জনগণের পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৮২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরবাসীকে প্রেসারাইজড সিস্টেমে সার্বক্ষণিক নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
দ্বিতীয় প্রকল্প
২ হাজার ৩৮৮ কোটি ২৭ লাখ টাকায় ৬৪টি জেলা সদরে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ ( প্রথম পর্যায় ও ২য় সংশোধিত)। এই প্রকল্পটি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়। আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।
তৃতীয় প্রকল্প
ডেসকো এলাকায় বিদ্যমান ৩৩ কেভি ওভারহেড লাইনকে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলে রুপান্তর, ক্ষমতা বর্ধন এবং স্থাপন প্রকল্প। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ঢাকা শহরের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সরবরাহ লাইনে ক্ষমতা বর্ধনের মাধ্যমে বিতরণ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব ও নির্ভরতা বৃদ্ধি করা হবে।
চতুর্থ প্রকল্প
২৫১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ডেসকো’র উত্তরা ও বসুন্ধরা ১৩২/৩৩/১১ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র ক্ষমতা বর্ধন ও পুনবার্সন প্রকল্প। ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলার বসুন্ধরা ও উত্তরা এলাকায় স্বল্প ক্ষমতাসম্পন্ন ও অকার্যকর ৫০/৭৫ এমভির ট্রান্সফরমার ও এআইএস সিস্টেম প্রতিস্থাপন। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নতুন অতিরিক্ত এলাকায় ৭০ হাজার গ্রাহক সংযোগের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা করা হবে।
পঞ্চম প্রকল্প
৩৫০ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ন্যাশনাল একাডেমি ফর অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলমেন্টাল ডিজ্যাবিলিটিজ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা জেলার মধ্যে অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের জন্য একটি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ জাতীয় অটিজম একাডেমি স্থাপন করা হবে।
৬ষ্ঠ প্রকল্প
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভৌত সুবিধাদি কার্যক্রম বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প। ২০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে অঞ্চলভিত্তিক ১০ উচ্চ ফলনশীল এবং অতি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মূল গবেষণা কার্যক্রম সহায়তা করা হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।

Comments are closed.