ব্যাংক কর্মকর্তা হত্যায় ছেলের ফাঁসি,মা’র যাবজ্জীবন

0

নিজস্ব সংবাদদাতা,চন্দনাইশ : চন্দনাইশের ব্যাংক কর্মকর্তা মনির আহমদ হত্যা মামলায় হত্যাকারী হুমায়ুন কবিরকে ফাঁসির আদেশ সহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও তার মাতা সামশুন্নাহারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রবিউজ্জামান। গতকাল ২২ আগস্ট বিজ্ঞ আদালত এ রায় প্রচার করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা মনির আহমদকে জায়গা সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০০৫ সালের ১০ জুন সন্ধ্যায় চন্দনাইশ সদরস্থ তার বাড়ীর পিছনের জায়গায় পূর্ব চন্দনাইশ চৌধুরী পাড়ার মৃত নুরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে হুমায়ুন কবির (৪০) কোদাল দিয়ে মাথায় কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম করে। এ সময় তার মাতা সামশুন্নাহার মনির আহমদকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। মনির আহমদকে মুমুর্ষ অবস্থায় প্রথমে চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে চমেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

দীর্ঘ ১৯ দিন চিকিৎসা শেষে একই সালের ২৯ জুন মনির আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ইতিমধ্যে ঘটনার পর মনির আহমদের ছেলে মো. তানভীর ইবনে মনির প্র: সুজন বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মনির আহমদের মৃত্যুর পর তদন্তকারী কর্মকর্তা ৩০২ ধারা সংযোজনের প্রেক্ষিতে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ১৯ এপ্রিল হুমায়ুন কবির ও তার মাতা সামশুন্নাহারের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মর্মে অভিযোগ এনে চার্জশীট দাখিল করেন। ২০০৭ সালের ২৮ জানুয়ারি চার্জ গঠনের পর আদালতে বাদী, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১১ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।

সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞ বিচারক আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় হুমায়ুন কবিরকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির রসিতে লটকিয়ে ফাঁসি কার্যকর করার নির্দেশের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। অপরদিকে তার মাতা সামশুন্নাহার (৬০) কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা পিপি এম. শওকত হোসেন চৌধুরী। আসামীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড. ফেরদৌস আহমেদ।

রায়ের ব্যাপারে মামলার বাদী মনির আহমদের ছেলে মো. তানভীর ইবনে মনির প্র: সুজন সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং আসামীদের শাস্তি কার্যকরের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। মনির আহমদের স্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার দীর্ঘদিন পর সাক্ষী-প্রমানের ভিত্তিতে আসামীদের মৃত্যুদন্ড ও যাবজ্জীবন শাস্তির আদেশ দেয়ায় আদালতের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। সে সাথে আদালতের আদেশ যথানিয়মে সম্পন্ন করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.