মোরশেদ রানা, সৌদি আরব : অনুমতি ছাড়া হজের নামে আগত ব্যক্তিদের পবিত্র নগরী মক্কায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে মক্কার চারপাশে ১০৯টি চেক পয়েন্ট বসানো হয়েছে। শুক্রবার ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সম্মেলন পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।এবার হজ পালনে হাজীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। এ জন্য নিয়মিত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অতিরিক্ত ১৭ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩ হাজার আধুনিক যানবাহন।
পবিত্র মক্কা নগরীতে সোমবারের উদ্ধার তৎপরতার মহড়ার দৃশ্য এটি। অগ্নি নির্বাপণ ও হাসপাতালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুশীলন করেছে নিরাপত্তা কর্মীরা। হজের মৌসুমে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব সৌদি কর্তৃপক্ষের। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও হজের আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন করতে মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
মক্কার মসজিদের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মাহমুদ আল আহমাদি বলেন, মক্কার সম্মানিত মেহমানদের সেবায় সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। হাজিদের আগমন ও ফেরত যাওয়া পর্যন্ত তাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা দিতে আমরা খুবই সতর্ক ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এটা এমন একটা বিষয় যাতে কোন অবহেলার অবকাশ নেই।
গত বছর হজের সময় পদদলিত হয়ে নিহত হন ৭ শতাধিক হাজি। সেই ট্রাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংহত করা হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। মক্কা ও মদিনায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সব ধরনের উন্নয়নমূলক হজের কার্যক্রম শুরুর আগেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন সৌদির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।
‘আল্লাহর ইচ্ছায়, গেল বছরের চেয়ে এবারের প্রস্তুতি অনেক ভালো। প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
‘আমাদের মেডিকেল সার্ভিসকে দুইটি অংশে ভাগ করা হয়েছে। একটি, তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান ও অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো। আর দ্বিতীয় অংশে রয়েছে, সচেতনতা সৃষ্টি ও স্থান পরিবর্তন ও আরেক জায়গায় সরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আগেভাগেই সতর্ক করা।’
২০১৫ সালের পদদলিতের ঘটনায় নিহত হাজিদের বেশির ভাগই ছিলেন ইরানের নাগরিক। সৌদি কর্তৃপক্ষ ইরানের হজযাত্রীদের ‘ যথাযথ নিরাপত্তা ও সম্মান প্রদানে ব্যর্থ’ হয়েছে এমন অভিযোগে ইরানের নাগরিকরা এবারের হজ পালন থেকে বিরত আছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘রিয়াদের দমনমূলক আচরণের কারণে মুসলিম বিশ্বের হজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি এখন বিবেচনার সময় এসেছে। তবে এই দাবিকে ‘ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
