সুজিত দত্ত, পটিয়া প্রতিনিধি : কালুরঘাট-কক্সাবাজার আরাকান সড়কের চট্টগ্রামের পটিয়া-বোয়ালখালী সীমা রেখার মিলিটারীপুল নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। এতে সেতুর নিচে আরসিসি পিসি গার্ডার নির্মাণ কাজ চলাকালে সেতুর নিচ দিয়ে সম্পূর্ণ নৌ-যান চলাচল বন্ধ করার ঘোষনা দিয়ে দোহাজারী সড়ক বিভাগ গত ২১ নভেম্বর একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে চট্টগ্রামের পটিয়ার ইন্দ্রপোলের অর্ধ-শতাধিক লবণ ইন্ড্রাস্ট্রিজে লালবাতি জ¦লার উপক্রম হয়েছে।
এতে লবণবাহী নৌ-বোট যাতায়ত বন্ধ হলে মৌসুমের শুরুতে প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক বেকার ও সারা দেশের লবণের চাহিদা সংকট সৃষ্টি হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। বর্তমানে মিল মালিক সমিতি এখানে পূর্বে নির্মিত সেতু গুলোর ন্যায় নৌ-চলাচলের সুযোগ রেখে সেতু নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দোহাজারী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সু-দৃষ্টি কামনা করেছে।
জানা যায়, চট্টগ্রামের পটিয়ায় ইন্দ্রপোল শিল্পাঞ্চল একটি প্রাচীন লবণ শোধনাগার শিল্পাঞ্চল। এখানে প্রায় ৫০টি লবণ শোধনাগার ইন্ড্রাস্ট্রিজ রয়েছে। যার থেকে পরিশোধিত লবণ সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। এতে করে সারা দেশের মোট লবণ চাহিদার ৩৬ ভাগ এ ইন্ড্রাস্ট্রিজ থেকে যোগান দেওয়া হয়। যা তৈরী করতে যে কাঁচামাল প্রয়োজন হয় তা টেকনাফ, মহেশখালী, মগনামা, কুতুবুদিয়া, বাঁশখালী, ও চকরিয়া থেকে নৌ-যানের পাশাপাশি ইতিপূর্বে সড়ক পথে আনা হতো।
কিন্তু সড়কপথে লবণবাহী ট্রাক থেকে নি:সৃত পানি পড়ে সড়ক যেমন পিচ্ছিল হয়ে দূর্ঘটনার সৃষ্টি করে তেমনী সড়কের উপরের বিটুমিন শোল্ডারও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রনালয়ের নির্দেশেই সড়কপথে লবণবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পটিয়া লবণ ইন্ড্রাস্ট্রিজ গুলোর কাঁচামাল পরিবহন নৌ-পথেই নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
বর্তমানে দোহাজারী সড়ক বিভাগ বিশেষ বিজ্ঞপ্তি নং-২১০৬/১২ তারিখ-১৭/১১/১৬ ইং মূলে পুরাতন ব্রীজ কালুরঘাট টু কক্সবাজার আরাকান সড়কের মাঝখানে মিলিটারীপুলের নির্মাণ কাজ চলাকালে ২১/১১/১৬ ইং থেকে ৩০/৩/২০১৭ ইং পর্যন্ত ব্রীজের নিচে নৌ-যান চলাচল বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ায় এ শিল্পাঞ্চলের প্রায় অর্ধ-শতাধিক ইন্ড্রাস্ট্রিজ কাঁচামালের অভাবে লালবাতি জ¦লার উপক্রম হয়েছে। নজরুল সল্টের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, একটি ট্রাকে লবণ পরিবহন হয় ১৫ টন। তার বিপরীতে একটি বোটে লবণ ধারণ হয় ৫০/১০০ টন। তাই নৌ-যান ছাড়া আমাদের শিল্প বাচিয়ে রাখা কঠিন হবে।
পটিয়া ইন্দ্রপোল লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেক কমিশনার ফজলুল হক বলেন, এখানে ইতিপূর্বে চন্দ্রকলা সেতু ও প্রসন্ন মহাজন সেতু নির্মাণ কাজ চলাকালে আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার এক পাশে নৌ-যান চলাচলে সুযোগ রেখেই আরসিসি পিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ করে। বর্তমানে লবণ মৌসুম। এতে হঠাৎ করে ব্রীজের কারণে নৌ-যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের শিল্পাঞ্চলের ৫০ টি ইন্ড্রাস্ট্রিজ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে ৩ হাজার শ্রমিক বেকার হবে। অর্জিত হবে না লক্ষ্যমাত্রা।
তিনি এব্যাপারে শিল্প রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সওজের কাছে গত মঙ্গলবার লিখিত আবেদন জানিয়ে বলেন দেশে বর্তমানে মারাত্মক লবণ সংকট চলছে। সরকার তা সামাল দিতে বিদেশ থেকে যে লবণের কাঁচামাল আমদানি করেছে তাতে আমাদের মিল গুলোও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। বর্তমানে আমদানিকৃত লবণের কাঁচামাল চট্টগ্রাম বন্দরে রয়েছে। যদি মিলিটারীপুলের কারণে আমরা লবণগুলো নৌ-পথে আনতে না পারি তা হলে দেশে মারাত্মক লবণ সংকট হবে।
পটিয়া ইন্দ্রপোল লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ বলেন, শিল্পাঞ্চল বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই শিল্প রক্ষায় সওজকে এক পাশের নৌ-যান চলাচলে সুযোগ তৈরীর জন্য মালিক সমিতি যে পত্র দিয়েছে আমি তার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি।
