সিটিনিউজ ডেস্ক::ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি হলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা হুমকিতে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ভারত একটি যুদ্ধবাজ রাষ্ট্র। তারা পাকিস্তান এবং চীনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এই চুক্তির ফলে ভারতের সঙ্গে কারও যুদ্ধ হলে আমাদেরও সেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হবে। ৩৩টি চুক্তির সবগুলোই ভারতের অনুকূলে যাবে। এই সমস্ত চুক্তি থেকে অবশ্যই সরে আসতে হবে, নতুবা আমাদের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে সাউথ এশিয়া ইউথ ফর পিস অ্যান্ড প্রোসপারেটি সোসাইটি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত পানি সম্পর্ক’শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
হাফিজ বলেন, প্রতিরক্ষা চুক্তি আমাদের প্রয়োজন নেই। এই চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে নিয়ে আসবে। তারপরও যদি চুক্তিটি করা হয় তাহলে দেশের ইতিহাসে কলঙ্ক তিলক হয়ে থাকবে। বর্তমান সরকার ভারতের যা যা দরকার সবই দিয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে বাংলাদেশ কিছুই পায়নি বলে মন্তব্য করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সমস্যাই পানি। তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আমাদের পানি দেবে না।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে আলোচনার টেবিলে অনেক ইস্যু রয়েছে, সেখানে তিস্তা চুক্তি যায় আসে না, তিস্তা চুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে পানির ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে না। পানির জন্য আমাদের ভুগতেই হবে। গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তিস্তা চুক্তি না হলে কিছু আসে যায় না। আসলে এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তাই তাদের জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নাই। আর এ কারণেই চেয়ারের লোভে সরকারের মন্ত্রী মারাত্মক এই কথা বলছেন।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, দুপুরের মধ্যেই ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ৮টি কেন্দ্র দখল করে নিয়েছিল। তারপরও নীরব বিপ্লবের মাধ্যমে আমাদের দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। কারণ জনগণ ভোট চোর আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস বেগম সেলিমা রহমান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক দিলারা চৌধুর, বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।
