জাহেদুল হক,আনোয়ারা::আনোয়ারায় পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে অতীষ্ঠ হয়ে পড়েছে উপজেলার অন্তত দুই লাখেরও বেশি গ্রাহক। এই আছে,এই নেই বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজি শুধু একদিনের নয়,প্রতিদিনের। বিদ্যুৎ দিনে-রাতে কতবার আসে যায় তার হিসাব রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছে ,শিক্ষার্থী,ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ।
জানা যায়,প্রতিদিনের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম বিপাকে পড়েছে এবারকার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুতের কারণে তারা ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারছে না। তাছাড়া স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায়ও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। চৈত্রের প্রচন্ড গরমে যেখানে মানুষ রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা থাকে না বিদ্যুৎ। কোন কোন দিন বিদ্যুৎ সারাদিন-রাতও থাকে না। বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক মতো না থাকায় সংবাদকর্মীরা সঠিক সময়ে খবর পাঠাতে পারে না।
একদিকে অসহনীয় গরম,অপরদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,নির্দিষ্ট সময়ে লোডশেডিং হলে আমরা পূর্ব থেকে প্রস্তুত থাকতে পারি। এ অবস্থায় লোডশেডিং চলতে থাকলে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকাই ভালো। লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করার ফলে ব্যবসায়ীদেরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতিমাসে। সামান্য বৃষ্টি ও বাতাসের আভাস পেতে না পেতেই পড়তে হয় বাড়তি যন্ত্রণায়। আকাশে সামান্য মেঘ বা একটু বাতাসেই বিদ্যুৎ চলে যায়। শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আনার পথে ৩৩ হাজার লাইনে অতিরিক্ত বাতাসে এ সমস্যা হচ্ছে বলে পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অচল হয়ে পড়েছে রাইচ মিল শিল্প। এখানকার অধিকাংশ মানুষ বয়লার মুরগির (পোল্ট্রি) উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিদ্যুতের কারণে দিন দিন পোল্ট্রি শিল্পও ধ্বংস হতে চলেছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ইলেক্ট্রনিক্স সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে পড়ছে। এছাড়া বাসাবাড়ির গৃহিনীদের ফ্রিজআপ খাদ্যও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অফিসে ফোন করলেই প্রতিদিনই থাকছে কোন না কোন সমস্যা বা অজুহাত।
বটতলী শাহ্ মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান জানায়,প্রচন্ড গরমে লেখাপড়া করা যায় না। এ জন্যই তাকিয়ে থাকি বিদ্যুতের দিকে। কিন্তু বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। এই আসে আবার চলে যায়। যে সময়টুকু আমরা লেখাপড়া করবো সে সময়ে বিদ্যুৎ থাকে না। আর এই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের লেখাপড়ার খুব ক্ষতি হচ্ছে।
জুঁইদন্ডী চৌমুহনী বাজারের জামাল রাইচ মিলের তত্ত্বাবধায়ক শাহ্ আলম জানান,লোডশেডিং দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,ক্ষুদ্র শিল্প-কারখানাসহ মিলারদের আর্থিক ক্ষতি হয়। বিদ্যুতের কারণে মিল বন্ধ থাকলেও শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করতে হয়। তবে লোডশেডিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে পল্লী বিদ্যুৎ আনোয়ারা জোনাল অফিসের ডিজিএম আকতার হোসেন বলেন, মেরিন একাডেমি থেকে শাহমীরপুর পর্যন্ত ৩৩ হাজার ভোল্টেজ লাইনের সমস্যার কারণে এমনটি হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই সব ঠিক হয়ে যাবে।
