মোহাম্মদ হানিফ::রমজান হলো সংযমের মাস, খাদ্য উৎসবের নয় কিন্তু রোজাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে একযোগে বিশেষ আয়োজনে চলে খাদ্য উৎসব। বাকী এগারো মাস যে খাবারগুলো হোটেল রেস্টুরেন্টে তেমন পাওয়া যায়না সে খাবারগুলোসহ আরও নানা প্রকারের ভাজা-পোড়া ও তৈলাক্ত খাদ্য বিপুল পরিমাণে বিক্রি করা হয় রমজানে।
বিরতিহীন ভীড় থাকে বিকালে খাবারের দোকানগুলোতে, চাহিদাপূরণে অনেক নতুন সওদাগরের আগমন ঘটে। বাসাবাড়িতেও সবার মূল কর্মস্থল হয়ে উঠে রান্নাঘর। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্যের দাম কমানো হয়। আর আমাদের দেশে ঘটে তার উল্টো চিত্র। রমজানে অতিরিক্ত চাহিদা থাকে বিধায় এ দাম বাড়ানো হয়।
যে কোন বিবেচনায় দ্রব্যমূল্যের দাম কমার কথা। কিন্তু রমজান আসলে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা পকেটের শূণ্যস্থান পূরণে অবৈধ উপার্জনের গতিটা বাড়িয়ে দেয় অসৎ বাহিনী। সংযমের প্রশিক্ষণের সময়েও খাবারের প্রতি আমাদের এত আকর্ষণের মূল কারণ হচ্ছে ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব ও অবৈজ্ঞানিক খাদ্যাভাস। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) খেজুর ও পানি খেয়ে ইফতার করে তারপর মাগরিবের নামাজ আদায় করে রাতের স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ করতেন। আমাদের জন্যও এ প্রক্রিয়া অধিত কল্যাণকর।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, ভাজা-পোড়া ও তৈলাক্ত খাবার এমনিতেই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। সারাদিন খালি পেটে থাকার পর এ খাবারগুলো স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। সেহরীতে অল্প পরিমাণ ভাতের সাথে শাক-সবজি ও পরিমিত পানি খেলে সহজে রোজা পালন করা যায়। মাছ-মাংস সেহরিতে খেলে পানির তৃষ্ণা বেশি পায়। অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ পরমাত্মাকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। প্রকৃত রোজাদারগণ এ মাসের আমলের শক্তি দিয়ে বাকী এগারো মাস ভালো থাকে। তাই আমাদের উচিৎ নবীজীর খাদ্যাভাস অনুসরন করে রমজানের প্রকৃত শিক্ষাটা আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করা।
