কালুরঘাট সেতুর ভাগ্য রেললাইনে!

0

ছাদেকুর রহমান সবুজ,সিটিনিউজ ::কালুরঘাটে দ্বিতীয় সেতু প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত অনুমোদন বাস্তবায়ন হবে এই আশ্বাসে তাকিয়ে আছে বোয়ালখালীবাসী তথা দক্ষিণ চট্টগ্রাম। তবে কালুরঘাটে রেল কাম সড়ক সেতুর নির্মাণ প্রকল্পের ভাগ্য জড়িয়ে গেছে দোহাজারী থেকে ঘুমধুম রেলওয়ে প্রকল্পের সাথে।

দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ তৈরি ও সম্পূর্ণ করতে হলে বিট্রিশ আমলে নির্মিত মেয়াদোত্তীর্ণ কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু পুন:নির্মাণ বা কালুরঘাটে দ্বিতীয় সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবেই বলে জানান চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদল।

এ সেতু নির্মাণ সম্পূর্ণ সরকারের অঙ্গ বাংলাদেশ রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জানিয়ে সাংসদ বলেন, কারোর ব্যক্তি উদ্যোগে এ সেতু নির্মাণ সম্ভব নয়। এ সেতুর ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়া রাজি হওয়ায় রেলওয়ে মন্ত্রণালয় তাঁদের সাথে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় চুক্তি সম্পাদনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ সেতুর ব্যাপারে যারা সস্তা রাজনীতি করছেন তারা না জেনেই বিভিন্ন সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন জানিয়ে সাংসদ বাদল বলেন, সেতুর ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শীগ্রই পরিস্কার করে জানাবেন।
বোয়ালখালী-কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদ সেতু নির্মাণের দাবীতে ২০১৪ সাল থেকে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী কালুরঘাটে রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. আব্দুল মোমিন ও সদস্য সচিব সাংবাদিক রমেন দাশগুপ্ত বলেন, এ সেতু নির্মাণে আমরা প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে রয়েছি। তাঁর নীতিগত অনুমোদনের দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।

পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটি বোয়ালখালীর সভাপতি রাজু দে বলেন, বর্তমান সরকার আমলে চট্টগ্রামের উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ কালুরঘাটে সেতুর নির্মাণের জন্য বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।

গত ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

এই প্রকল্পে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ১৩ হাজার ১১৫ কোটি ও বাকি চার হাজার ৯১৯ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর আগে ২০১০ সালে অনুমোদনে সময় মূল প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে মধ্যে কাজ শেষ করার কথাছিলো।

প্রসঙ্গত ১৯৩০ সালে নির্মিত কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু ১৯৬২ সালে একমুখী সড়ক সেতুতে রূপান্তর করা হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.