নিজস্ব প্রতিবেদক:: আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মরহুম আতাউর রহমান খান কায়সার বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি রাজনীতি থেকে কূটনীতিকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তিনি কখনো জাতীয় বা স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রুপ বা সাবগ্রুপ করেননি। তিনি রক্তপাতের রাজনীতির বিরুদ্ধে ছিলেন। হিংসার রাজনীতিকে ঘৃণা করতেন। দল থেকে কি পেলেন তা নিয়ে তাঁর মাথাব্যথা ছিল না। জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা পালন করেছেন। মন্ত্রী না হওয়ার আক্ষেপ হয়তো তাঁর থাকতে পারে। কিন্তু তিনি তা কখনো প্রকাশ করেননি। বাবু ভাইয়ের সন্তান জাভেদ আজকে মন্ত্রী। নেত্রী কিন্তু মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেছেন, ‘বাবু ভাইকে আমি মূল্যায়ন করতে পারিনি। তাই জাভেদকে স্বীকৃতি দিয়েছি’। কায়সার ভাইকে মূল্যায়ন করতে পারেননি। কিন্তু তার মেয়ে ওয়াসিকাকে মহিলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি করেছেন। সংসদ সদস্য করেছেন।
সোমবার (০৯অক্টোবর) নগরীর মুসলিম হলে আওয়ামীলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম আতাউর রহমান খান কায়সারের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বিএনপি’র উদ্দেশ্যে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তোমাদের রাজনীতিতে অবসর হয়ে গেছে। তোমরা কার ছুটি চাইছ। প্রধানমন্ত্রীকে ছুটি দেয়ার অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। বিএনপি ইস্যু খুঁজছে। তাদের কোন ইস্যুতে জনগণ সাড়া দিচ্ছে না। তাই বিএনপি হল ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। তাদের নেত্রী চার মাস হল দেশে নেই। দেশে বন্যা-রোহিঙ্গা সংকটে তিনি এবং তার পুত্র ল-নে বসে কি ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে তা আজ জাতি জানতে চায়।
উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদুত নুরুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় ওবায়দুল কাদের
বলেছেন, আজ যে মানুষটিকে আমরা এখানে স্মরণ করছি, তিনি একজন অনন্য সাধারণ, ব্যতিক্রমী, আদর্শবান, নৈতিকতার বলে বলীয়ান রাজনীতিক।

তিনি বলেন, আজ আমরা একজন আদর্শবান নেতাকে স্মরণ করছি। যদি সিনিয়র নেতাকে সম্মান না করেন, তাহলে আপনি যখন সিনিয়র হবেন, তখন জুনিয়ররা আপনাকে মর্যাদা দেবে না। রাজনীতিতে পূর্বসুরীদের স্মরণ করতে হবে।
উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটি বিষয় মনে করিয়ে দিতে চাই। দেশের জনগণকে একটা প্রশ্ন করবেন। আমরা এ দেশকে কি দিয়েছি। আর আমাদের প্রতিপক্ষ বিএনপি কি দিয়েছে। বিএনপি এদেশকে পিছিয়ে দেয়া ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার কোটি টাকার পদ্ধা সেতুর কাজ এগিয়ে চলছে। এই সেতুর সুপার স্ট্রাকচার আজ দৃশ্যমান। ঢাকা-চট্টগ্রামে চার লেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন। বিদ্যুতে ডিসেম্বরে শতভাগ অর্জন শেখ হাসিনার অবদান। আজ ইউনিয়নে ডিজিটাল সেবা। গ্রামে বসে বিদ্যুৎ বিল, পাসপোর্ট, ভর্তি, চাকুরির আবেদন, ডিজিটাল সেন্টারে বসে সেবা নিতে পারেন। নারীর ক্ষমতায়নের রূপকার শেখ হাসিনা। আজ ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৩ কোটির হাতে মোবাইল, বছরের প্রথমদিনে বাচ্চাদের হাতে বই পৌঁছে যায়। সবকিছুর অবদান শেখ হাসিনার।
প্রধান বিচারপতি ছুটি নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধান বিচারপতি তার দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারের কথাও জানিয়েছেন। কিন্তু বিএনপি তা নিয়েও রাজনীতি করছে। মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধান বিচারপতির স্বাক্ষর জাল। মওদুদের জীবনটাই তো জাল। তিনি একটি বাড়ি আত্মসাত করতে গিয়ে যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, সব কাগজই আদালতে জাল প্রমাণিত হয়েছে। মওদুদের মুখে জাল স্বাক্ষরের কথা ভুতের মুখে রাম নাম। ১৫ তারিখ নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে যাবে বিএনপি। অদ্ভুত বিষয় দেখলাম। ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন শেখ হাসিনাকে নির্বাচনের সময় ছুটিতে পাঠাতে হবে। তোমাদের রাজনীতিতে অবসর হয়ে গেছে। কার ছুটি চাও। সারা দুনিয়ায় আজ বাংলাদেশকে নতুন মর্যাদা, নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা ছুটি নেবেন কি নেবেন না সেটা সংবিধানে লেখা আছে। নির্বাচন কমিশন কি প্রধানমন্ত্রীকে ছুটি দিতে পারে এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এটা সংবিধানে নেই। আর বলছে সহায়ক সরকার। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যে সরকার ক্ষমতাসীন সেই সরকারই নির্বাচনকালিন সহায়ক সরকার। আমরা কি এতই দেউলিয়া হয়ে গেছি। যদি আমাদের গণতন্ত্র না থাকতো তাহলে বিশ্বের এতগুলি সংসদ সদস্য বাংলাদেশে আইপিইউ সম্মেলনে যোগ দিতেন না। তারা প্রতিদিন দলীয় অফিসে একে অপরকে সরকারের দালাল বলে। এখন কে যে দালাল আর কে যে, খাঁটি বিএনপি’র তা বুঝা দায়।
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের বিষয়ে কোন আপোষ করা যায় না তা আতাউর রহমান খান কায়সার আমাদের শিখিয়ে গেছেন।
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মহিবুল হাসান নওফেল বলেন, আতাউর রহমান খান কায়সারের মত বিশ্বস্থ, পরিচ্ছন্ন এবং আদর্শবান নেতা আর আসবে কিনা সন্দেহ আছে। তিনি শিখিয়ে গেছেন, প্রমাণ করে গেছেন কিভাবে দল এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি আনুগত্য করতে হয়।
ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি বলেন, তাঁর বাবা মূল্যবোধের রাজনীতি করতেন। দেশপ্রেমের রাজনীতি করতেন। ঐক্যের রাজনীতি করতেন। তিনি তাঁর পিতার জন্য সকলের কাছে দোয়া চান।
সভায় বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা আ. লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, উত্তর জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সাবিহা নাহার মুছা এমপি, দক্ষিণ জেলা আ. লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, নগর আ. লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, উত্তর জেলা নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দীন, নগর আ. লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, দক্ষিণ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, উত্তর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাউজান পৌরসভার মেয়র দেবাশীষ পালিত, কোষাধ্যক্ষ ও রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল, নগর আ. লীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন।
