নিজস্ব সংবাদদাতা,চন্দনাইশ : চন্দনাইশ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরসহ ৬ জনের নাম দিয়ে মামলা দায়ের করেছেন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনু। গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছাড়া হয়েছে সভাপতি গ্রুপের নেতা-কর্মীরা।
গত ২৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকালে চন্দনাইশ সদরস্থ শাহ্ আমিন শিশু পার্কে আ’লীগের সমাবেশ শুরু হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর গ্রুপের সাথে সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনু গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষে ২০ জনের অধিক আহত হয়।
বর্তমানে সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনু, প্রচার সম্পাদক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী ও মোহাম্মদ ওসমান চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনু বাদী হয়ে গত ২৭ অক্টোবর রাতে সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, যুবলীগ নেতা ইয়াছিন আরাফাত চৌধুরী, আমীর মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন,শওকত হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা মো.মামুন,মো.ইউনুসের নাম দিয়ে অজ্ঞাতনামা ২০/২৫জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অদ্যাবধি কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। থানা অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দীন খন্দকার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনু বলেছেন, কর্ণেল অলির অনুসারীদের যোগসাজসে আ’লীগের অভ্যন্তরে ডুকে তাদেরকে হত্যা করার উদ্দেশ্য এ ঘটনা করা হয়েছে। পুলিশ প্রতিবাদীদের মারধর করে আহত করেছে। এদের মধ্যে চাগাচরের প্রবীন আ’লীগ নেতা লোকমান ফকির (৮০) বছর বয়স্ক লোকটিকে পুলিশ মাধরধর করে আহত করে। অথচ সেদিন তিনি রোজাও রেখেছিলেন।
অপরদিকে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেছেন, ঘটনার সময় তিনি নিজে,দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনু, পৌর আ’লীগের আহবায়ক কায়সার উদ্দীন চৌধুরী, বলরাম চক্রবর্তী, সমীরণ দাশ তপনসহ অনেক নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত কমিটি করে তদন্ত পূর্বক প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সভাপতি ও এম.পি মহোদয়কে বলেছেন বলে তিনি জানান। আসল ঘটনা কি, সেটা তদন্ত না করে স্থানীয় সংসদ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন। হামলা-মামলা দিয়ে ত্যাগী নেতাদের মাঠ থেকে দূরে সরানো যাবেনা বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। এ ব্যাপারে তিনি দলের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক নিকট বিষয়টি অভিহিত করবেন বলে জানান।
ত্যাগী আ’লীগ নেতাদের দূরে সরানোর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন। দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেছেন তিনি মামলার বিষয়ে জানেন না। খবর নেবেন বলে জানান। সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, এসবের বিপক্ষে তার অবস্থান থাকবে। এ ঘটনাটি অনাঙ্কাকিত। তবে কেউ সাধু নয়, সবার দোষ-ক্রটি আছে।
সিনিয়র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, উপজেলা আ’লীগের সভাপতিকে আসামী করে সাধারণ সম্পাদক মামলা করায় উপজেলা আ’লীগের গ্রুপিং প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
এ হামলা ও মামলাকে কেন্দ্র করে তৃতীয় কোন শক্তি মাথা ছাড়া দিয়ে আ’লীগের রাজনৈতিক অঙ্গণে প্রবেশ করে কিনা, বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার বলে তারা মনে করেন। ঘটনার পর পর সভাপতি গ্রুপের নেতা-কর্মীরা গা ডাকা দেয়।
মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে গ্রেফতার আতংকে রয়েছে এ গ্রুপের সদস্যরা। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আতংকে রয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। উপজেলা আ’লীগের দু’টি গ্র“পের যে মিলনের সূচিকা প্রস্তুত করতে চেয়েছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী তাতে ফাঁটল ধরেছে এ সমাবেশে উভয় পক্ষের সংঘর্ষের কারনে।
তাছাড়া এ সংঘর্ষে দক্ষিন জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য আবু আহমদ জুনু, প্রচার সম্পাদক হেলাল উদ্দিন চৌধুরীসহ অনেক নেতা-কর্মীর উপর যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে এতে আ’লীগ পরিবারের সিনিয়র সদস্যরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তথা সংঘঠনের নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিদের উপর হামলা রাজনৈতিক পরিবেশ বিবর্জিত।
