সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি, সিটি নিউজ :: অভিযানের নামে নিরহ জনসাধারনকে গাঁজা, ইয়াবা ও মদসহ বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানোসহ বেপোরোয়া কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে পড়েছে সীতাকুণ্ড থানার সাদা পোশাকধারী পুলিশ।
কোনো ওয়ারেন্ট কিংবা মামলা ছাড়াই লোকজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া এ এলাকার নিত্যচিত্রে পরিনত হয়েছে। পরে মাদক কিংবা ডাকাতি মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের উৎকোচ।
অর্থের প্রতিযোগিতায় নামা থানার অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিনিয়ত নিরহ মানুষকে ভয়,ভীতির ফাঁদে ফেলে আদায় করছেন মোটা অংকের টাকা। এতে ব্যর্থ হওয়া লোকজনকে মাদক ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানীমূলক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রীতি সীতাকুণ্ডে অভিযানের নামে পুলিশির চালানো আগ্রাসী কর্মকান্ডে সীতাকুণ্ড উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছে ‘আতঙ্কে’র নাম সাদা পোশাকের পুলিশ।
জানা গেছে, গত বুধবার রাতে অভিযানের নামে ভাটিয়ারী এলাকায় এসআই নাজমূলের নেতৃত্বে নিরহ লোকজনকে আটককালে রোষানলে পড়ে পুলিশ।
এ সময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে নিহত হয় সাইফুল ইসলাম নামে এক কিশোর। আহত হয় কমপক্ষে তিনজন।
তবে সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই নাজমুল হুদাসহ পুলিশ ও আনসারের দুই সদস্য ভাটিয়ারীতে আসামী ধরতে আসার বিষয়টি থানার নথিভুক্ত ছিলো না। যার কারণে থানার ওসিসহ অন্যান্য অফিসাররা বিষয়টি জানতেন না।
একিভাবে গত ১২ জানুয়ারী ভাটিয়ারী মিজ্জানগর জেলে পাড়ায় আসন্ন মাগী পূর্নিমায় অনুষ্ঠিতব্য মহোৎসবের বিষয়ে সন্ধ্যায় এলাকার বেশকয়েকজনকে নিয়ে জেলে বাড়ির পাশের একটি খোলা মাঠে মিটিং এ বসেন সর্দার বাদল জলদাশ।
এসময় সেখানে একটি সিএনজি অটোরিক্সা দাঁড়ানোর পর সাদা পোশাক পরিহিত সীতাকুণ্ড থানার এসআই বেলায়েত উল্ল্যাহ, টিকলো মজুমদার ও এএসআই এমদাদ সিএনজির ভেতর থেকে বাইরে আসেন। তারা কোন অভিযোগ ছাড়াই জেলে সর্দর বাদলকে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে টেনে হিচড়ে সিএনজি অটোরিক্সায় তুলেন।
এসময় উপস্থিত জেলেরা আটকের কারন জানতে চেয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে জেলে পাড়ার শতশত লোক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাদা পোশাকের তিন পুলিশকে গণধোলাই দেয় এবং রাইফেল কেড়ে নেয়।
এসময় হামলার শিকার হওয়া তিন পুলিশ সিএনজি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে কিছুদুর যাওয়ার পর উত্তেজিত লোকজনকে রাইফেল ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। এতে স্থানীয় এক যুবক জনতার হাত থেকে রাইফেলটি নিয়ে পূনরায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
জানা যায়, সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকার জন্য রয়েছে সাদা পোশাকের কয়েকটি বিশেষ টিম। এসব বিশেষ টিমের দায়িত্বে রয়েছেন থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল হুদা, টিকলো মজুমদার, বেলায়েত উল্লাহ, মো. সাইফুল্লাহ, নাজিম মাহমুদ, সুজয় মজুমদার, মাহফুজুর রহমানসহ কয়েকজন। টিমগুলোর কাজ হচ্ছে এলাকাভিত্তিক সোর্সের সঙ্গে বসে অবস্থাপন্ন পরিবার ও ব্যক্তির তালিকা তৈরি করে কথিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।
তারা ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের নাম করে অবস্থাপন্ন ব্যক্তি ও তাদের সন্তানদের ধরে থানায় নিয়ে যায়। তাদের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নাম করে সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্ট ও এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার না করে মাসহারা আদায় করাও বিশেষ এই টিমের কাজ।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বলেন, ‘কাউকে ভয় কিংবা নির্যাতন করে অনৈতিক সুবিধা নিতে পারে না কোনো পুলিশ। এটা অপরাধের মধ্যেই পড়ে।’
সাদা পোশাক কিংবা ওয়ারেন্ট ছাড়া আটক করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক থানা পুলিশকে সাদা পোশাকে অভিযান না চালানোর জন্য নির্দেশনা রয়েছে। কারও এ নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বর্তমান সময়ে সীতাকুণ্ড থানার কিছু পুলিশের এহেন অপরাধ কর্মকান্ডে পুরো পুলিশের উপর একদিকে যেমন আক্রোশ বাড়ছে তেমনী বদমান হচ্ছে সব পুলিশের।
