চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে চুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
নেজাম উদ্দিন রানা :: চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের উপর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তিন ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। নিরাপদ সড়কের দাবীতে রাজধানীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা হয়েছে দাবী করে গতকাল ৫ আগস্ট রবিবার ৯টা হতে চুয়েট গেইট সংলগ্ন চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে অবস্থান নেয় চুয়েটের শিক্ষার্থীরা।
এ সময় চট্টগ্রাম শহরমুখী এবং কাপ্তাই অভিমূখী যানবাহনগুলো উভয় পাশে আটকে যায়। চুয়েটের শিক্ষার্থীরা সড়কের উপর গাছের টুকরো ফেলে লাটি হাতে স্লোগানে প্রকম্পিত করে রাখে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় বড় যানবাহন আটকে থাকলেও ছোট যানবাহনগুলো বিকল্প পথ হিসেবে শান্তিরহাট হয়ে বেতাগী পথে চলাচল করে। এ সময় পথচারীরাও মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন।

সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একটানা তিনঘন্টা কাপ্তাই সড়ক অচল হয়ে পড়ে। তবে এ সময় রোগীবাহী গাড়ী, বিদেশ যাত্রীবাহী গাড়ীগুলো নির্বিঘ্নে চলাচলে সহায়তা করে চুয়েট শিক্ষার্থীরা।
পাশাপাশি পাহাড়তলী চত্বরে অবস্থান নেওয়া শ্রমিক-জনতার সাথেও চুয়েট শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও রাউজান থানা পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। চুয়েট শিক্ষার্থীদের অবরোধের সময় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাংচুরের আশংকায় এ সময় অনেক ব্যাবসায়ী নিজেদেও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়।
আন্দোলনরত মাহফুজ ও কৌশিক নামের চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী স্থানীয় সাংবাদিকেদের বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবীতে ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে আমরা শাান্তিপূর্ণভাবে আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনকালে কিছু দুর্বৃত্ত আমাদের উপর হামলার চেষ্টা চালায়।
নিরাপদ সড়কের দাবীতে ঢাকায় শান্তিপূর্ণভাবে অন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে আমাদের এই আন্দোলন। তাদের আন্দোলনের কারণে জনদুর্ভোগের কথা উল্লেখ করলে তারা বলেন, যেখানে আমার ভাইয়ে রক্ত ঝড়েছে সেখানে জনদুর্ভোগ নিয়ে প্রশ্ন গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আরো দাবী করেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সড়কে অবস্থান নিলে দূর্বৃত্তরা আমাদেও হামলা করার চেষ্টা করে। এদিকে চুয়েট শিক্ষার্থীদের চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে অবস্থানকালে পাহাড়তলীতে মোটর শ্রমিকরা অবস্থান নেন।
পরে ঘটনাস্থলে থাকা রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেফায়েত উল্ল্যাহ চুয়েট শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে তাদেরকে ক্যাম্প্যাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানোর পর চুয়েট শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেফায়েত উল্ল্যাহ বলেন, পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে কোনো ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
