জাতিসংঘে বিশ্ব যুব সম্মেলনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি শেখ তামরিন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শুরু হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ যুব সম্মেলন ‘ফিউচার উই ওয়ান্ট মডেল ইউনাইটেড নেশনস (FWWMUN) কনফারেন্স ২০২৬’।
এই বিশ্ব সম্মেলনে বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবময় ইতিহাস রচনা করেছেন শেখ সিদরাতুল মুনতাহা সিদ্দিকী তামরিন। তিনি এবারের সম্মেলনে একমাত্র বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ইয়াং ডেলিগেট হিসেবে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেছেন।
গতকাল ৩১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ডেলিগেট হিসেবে তার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত নির্বাচিত তরুণ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরও কয়েকজন তরুণ প্রতিনিধি অংশ নিলেও, তাদের পাসপোর্ট বাংলাদেশি নয়। একমাত্র তামরিনই বাংলাদেশি পাসপোর্ট বহন করে সরাসরি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যা নিঃসন্দেহে দেশের জন্য অত্যন্ত সম্মানের।
চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্ব শান্তি, কূটনীতি, তরুণ নেতৃত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা নিয়ে নীতি-নির্ধারণী আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘের মতো বিশ্বের সর্বোচ্চ কূটনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলার এই সুযোগ তামরিনের জীবনে এক অনন্য মাইলফলক।
শেখ সিদরাতুল মুনতাহা সিদ্দিকী তামরিন চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের কৃতি সন্তান। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক শেখ ফয়সাল সিদ্দিকী ববি’র জ্যেষ্ঠ কন্যা।
প্রবাসে বেড়ে উঠলেও বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে হৃদয়ে ধারণ করে বড় হয়েছেন। প্রবাসের মাটিতে থেকেও নিজের মেধা, আত্মবিশ্বাস ও অসাধারণ নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে তিনি আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত তার গর্বিত পিতা সাংবাদিক শেখ ফয়সাল সিদ্দিকী ববি বলেন, “একজন বাংলাদেশি ও একজন প্রবাসী বাবা হিসেবে এটি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। আমার মেয়ে প্রমাণ করেছে, সুযোগ পেলে বাংলাদেশি তরুণরা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে। আমি দেশবাসীর কাছে আমার মেয়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা করছি, যেন সে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সততার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে কাজ করতে পারে।”
FWWMUN হলো জাতিসংঘের আদলে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষামূলক সম্মেলন, যেখানে ভবিষ্যৎ বিশ্বনেতাদের কূটনৈতিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানো হয়।
