অর্থবাণিজ্য ডেস্ক : দেশের অভ্যন্তরীণ শুল্ক স্টেশন ও স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এগুলোর মাধ্যমে সবধরনের পণ্য আমদানি-রফতানির অনুমতি চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রবিবার দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বাণিজ্য সহায়তার জন্য স্থলবন্দর এবং শুল্ক স্টেশনগুলোর উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে ব্যবসায়ীরা এ দাবি জানিয়েছেন।
এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ সরন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআরের শুল্কনীতির সদস্য ফরিদ উদ্দিন ও স্থলবন্দর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থলবন্দর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক (অডিট) আবুল কালাম।
ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নৌ মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘স্থলবন্দরগুলোর সমস্যা সমাধানে আজকের সেমিনারের সুপারিশগুলো নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করা হবে। আশা করছি এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।’
স্থলবন্দর দিয়ে সবধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানির অনুমতি এনবিআর দিয়ে থাকে। তবে আমার মনে হয়, স্থলবন্দর দিয়ে সবধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া উচিত।’
পঙ্কজ সরন বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হলে উভয় অংশের স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। এ জন্য দুই দেশের স্থলবন্দর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে যৌথভাবে স্থলবন্দরগুলো পরিদর্শন করে কাজ করতে হবে। আমি আজকের আলোচনার সুপারিশগুলো দিল্লিতে পৌঁছে দিবো।’
সেমিনারে ব্যবসায়ীরা স্থলবন্দরগুলোতে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি কিছু সুপারিশও তুলে ধরেন।
সাতক্ষীরা চেম্বারের সভাপতি নাসিম ফারুক বলেন, ‘ভোমরা স্থলবন্দরে প্রতিদিন ৪শ’ থেকে ৫শ’ ট্রাক পণ্য আনা-নেওয়া করে। একটি ওয়েব্রিজ থাকায় ট্রাকের ওপর পরিমাপের সময় যানজট সৃষ্টি হয়। ভারতীয় অংশে অবকাঠামো দুর্বল হওয়ায় পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে অসুবিধা হয়। অন্যদিকে যেসব ট্রাক প্রবেশ করছে টার্মিনাল না থাকায় সেগুলো অবস্থান করতে পারছে না।’
এ সময় তিনি স্থলবন্দরটির অবকাঠামো উন্নয়ন, পৃথক একটি ওয়েব্রিজ স্থাপন ও সবধরনের পণ্য আমদানি-রফতানির অনুমতি চান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বারের সভাপতি আজিজুল হক আখাউড়া স্থলবন্দরে পচনশীল দ্রব্যের জন্য পরীক্ষাগার, ইপিবির শাখা স্থাপন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বেসরকারিভাবে ওয়্যারহাউজ স্থাপন ও সবধরনের পণ্য আমদানি-রফতানির অনুমতি চান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি আবদুল বারী সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, কাস্টমস অফিসারদের বন্দরসংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থানের জন্য ডরমেটরি স্থাপনের দাবি জানান।
বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রতিনিধি বলেন, ‘বরিশালে একটি শুল্ক স্টেশনের এসআরও জারি করা হলেও কার্যকর হচ্ছে না। ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবসায়ীদের খুলনা যেতে হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বেনাপোল বন্দর অবকাঠামো সমস্যা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর হলেও ব্যবসায়ীদের মালামাল দেখাশোনার জন্য নিরাপত্তা প্রহরী নেই।’
এ সময় বেনাপোল বন্দরে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ইপিবি অফিস ও বিএসটিআইয়ের পরীক্ষাগার স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
চুয়াডাঙ্গা চেম্বারের সভাপতি ইয়াকুব হোসেন বলেন, ‘জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা স্থলবন্দর উদ্বোধন হলে এখনো চালু করা হয়নি।’ এই স্থলবন্দরের কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তিনি।
সিলেট চেম্বারের সভাপতি সালাউদ্দিন শেওলা শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে রূপান্তরের দাবি জানান। এছাড়া তামাবিল স্থলবন্দরের ভারতীয় অংশে অবকাঠানো উন্নয়নের জন্য হাইকমিশনারের দৃষ্টি আর্কষণ করেন তিনি।
বেনাপোল স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান বলেন, স্থলবন্দরে ট্রাক টার্মিনালের সংকট রয়েছে। এছাড়া বন্দরের সক্ষমতা উন্নয়নে অবকাঠামো বাড়ানো প্রয়োজন। ট্রানজিটকে সামনে রেখে বন্দর উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
চট্টগ্রাম সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আক্তার হোসেন বলেন, এসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ধীরগতির কারণে আমদানি-রফতানি ব্যাহত হচ্ছে। এই সিস্টেমের গতি এতোই স্লো যে সকালে ডকুমেন্ট সাবমিট করলে বিকালে বের হচ্ছে। এতে ট্রাক-লরি জট সৃষ্টি হচ্ছে। বন্দরের গতি কমে আসছে।
ঢাকা চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ন রশিদ সপ্তম-পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় স্থলবন্দরগুলোর উন্নয়নে পরিকল্পনা রাখার পরামর্শ দেন।
সভাপতির বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘অধিকাংশ স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশনগুলোরতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অতিরিক্ত ডকুমেন্টেশন আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে থাকে। এসব সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রক্রিয়াকে আরও তরান্বিত করা সম্ভব।’
