অর্থবাণিজ্য ডেস্ক : শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, শিল্প কারখানা স্থাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্য শুধু মুনাফা অর্জনের জন্য নয়। এর সঙ্গে সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা জড়িত। সমাজের অংশ হিসেবে আমরা কেউ এ দায়বদ্ধতা এড়াতে পারি না। তাই সবাইকে অতি মুনাফা অর্জনের জন্য নকল ও নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনের হীন মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
শনিবার দুপুরে হোটেল সোনারগাঁওয়ে দেশবন্ধু ফাইবার লিমিটেড এবং বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ক্যামটেক্সের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিল্প কারখানায় উৎপাদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুণগতমান বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে গুণগতমানের ক্ষেত্রে আপোসহীন হতে হবে। তাহলেই আমরা গুণগতমানের শিল্পায়নের ধারা জোরদার করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বাস্তবে রূপায়নে সক্ষম হব।’
আমু জানান, দেশে পলিস্টার স্ট্যাপল ফাইবারের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন এবং প্রতি বছর এ চাহিদা ১২-১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। স্পিনিং মিলগুলোতে ব্যবহৃত পলিস্টার স্ট্যাপল ফাইবারের শতভাগ আমদানি করতে হয়। এখাতে আমদানি বাবদ বছরে প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩,৮৮০ কোটি টাকা খরচ হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে প্রথম পূর্ণাঙ্গ পলিস্টার স্ট্যাম্পল ফাইবার (পিএসএফ-এক ধরনের পলিস্টার সুতা) তৈরির কারখানা করতে যাচ্ছে দেশবন্ধু গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘দেশবন্ধু ফাইবার লিমিটেড’।
প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্যামটেক্সের কারিগরি সহায়তায় পলিস্টার ফাইবারের চিফস তৈরি করে স্থানীয় স্পিনিং কারখানাগুলোকে স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করবে। এ কারখানা স্থাপনে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ।
দেশে পলিস্টার স্ট্যাম্পল ফাইবার কারখানা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে দেশবন্ধু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রহমান বলেন, ‘দেশের সর্ববৃহৎ রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ কোম্পানি স্পিনিং মিলগুলোতে বর্তমানে বছরে ৩ লাখ টন পলিস্টার স্ট্যাম্পল ফাইবারের চাহিদা রয়েছে। এতে প্রতিবছর ব্যয় হয় ৪৮০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় ৩ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা।’
দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খাঁন পোটন, ক্যামটেক্সের চেয়ারম্যান সেন মা, দেশবন্ধু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রহমান প্রমুখ।
