উত্তর জেলা বিএনপি অভিভাবকশুন্য-গ্রুপিং-দ্বন্দ্ব ও বিভক্তিতে নেতারা

0

জুবায়ের সিদ্দিকী/গোলাম শরীফ টিটুঃ গ্রুপিং-দ্বন্দ্ব ও বিভক্তি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। একদিকে দীর্ঘদিন ধরে দল ক্ষমতায় নেই, বিপরীতে নিজেদের মধ্যে কোন্দল। যে কারনে দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং ও কোন্দল যেন নিত্য চিত্র। দল গোছানো দুরে থাক, দলের মধ্যে গ্রুপিং চর্চাতে ব্যস্ত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ। বেহাল এই গুরুত্বপুর্ন জেলা কমিটির হাল ধরার কেউ নেই।

দীর্ঘদিন ধরে জেলে আহবায়ক আসলাম চৌধুরী। তিনি আবার কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ন মহাসচিবও। সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান মারা গেছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবক শুন্য চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি।

প্রবীন একজন বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, অনেকদিন ধরে আমরা নেতৃত্ব শুন্য। দল থেকেও কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছি না। আর এ সময়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি নানা গ্রুপে বিভক্ত। দলকে না গুছিয়ে নেতারা দলের মধ্যে গ্রুপিং ও ভাঙ্গন সৃষ্টিতে ব্যস্ত।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি সাংগঠনিক ভাবে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছে। তারা নেতাকর্মীদের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। মানুষের পাশেও তাদের উপস্থিতি তেমন নেই। দেশের সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক জেলা চট্টগ্রাম উত্তর। ফটিকছড়ি, রাউজান, মিরসরাই, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, সীতাকুন্ড, সন্দ্বীপ এই ৭টি উপজেলা ও ৯টি পৌরসভা নিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা গঠিত। তাই এখানে সাংগঠনিক কার্যক্রমও বেশি। কিন্তু এ দিক থেকে পিছিয়ে আছে বিএনপি।

সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, দুই শিবিরে বিভক্ত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি। এক গ্রুপ গিয়াস কাদের চৌধুরী নিয়ন্ত্রন করেন। অপরটি নিয়ন্ত্রন করেন আব্দুল্লাহ আল নোমান ও গোলাম আকবর খন্দকার।

জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল আসলাম চৌধুরীকে আহবায়ক এবং গিয়াস কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত রাঙ্গুনিয়াা পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল হাসানকে সদস্য সচিব করে উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে এ কমিটির আকার বাড়িয়ে ৩৯ সদস্যের করা হয়। কমিটিকে পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে জেলার প্রতিটি থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের পর সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করতে বলা হয়।

কিন্তু থানা কমিটিগুলো গঠন করতে গিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন আহবায়ক ও সদস্য সচিব। তারা দলকে এক করার পরিবর্তে প্রতিটি থানায় দুটি করে কমিটি ঘোষনা করেন। আসলাম চৌধুরীর এক কমিটি, আব্দুল্লাহ আল হাসানের আরেক কমিটি। এখনো সেই ধারা বহমান উত্তর জেলা বিএনপিতে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, তিন মাসের মধ্যে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও এখনো সে কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। তাই নেতাকর্মীরা দারুন হতাশ। আর আহবায়কও দীর্ঘদিন ধরে জেলে, যার কারনে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে কম দেখা যাচ্ছে। ফলে দলের সার্বিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। তৃনমুলের নেতাকর্মীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ”রাজনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে উত্তর জেলা বিএনপি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে’।

দলীয় সুত্র মতে, এক সময় চট্টগ্রামের রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করতেন উত্তর জেলার নেতারা। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে সেই জেলা কমিটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,’ দলের কোন্দল ঠেকাতে আহবায়ক আসলাম চৌধুরীকে কমিটি গঠনের একক ক্ষমতা দেওয়া হলেও সেই কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ১৫ মে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন আহবায়ক আসলাম চৌধুরী।

২০১৮ সালের জানুয়ারীতে মারা যান সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান। অভিভাবকশুন্য হয় উত্তর জেলা বিএনপি। ফলে কোন্দল ও গ্রুপিং এর কারনে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন নেতার অনুসারীরা। মাঝেমধ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র উপদেষ্ঠা ও সাবেক রাষ্ট্রদুত গোলাম আকবর খোন্দকার কে সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা ব্যারিষ্টারর মীর হেলালকে সাধারন সম্পাদক করে কমিটি করার উদ্যোগ নেয় দলের একটি অংশ। এটি প্রকাশ্যে এলে ফের চাঙ্গা হয়ে উঠে গ্রুপিং। এতে করে থমকে যায় সেই উদ্যোগ।

করোনার কারনে বন্ধ থাকা রাজনীতি চালু হলে উদ্যোগ নেওয়া হয় উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের। এতেকরে সক্রিয় হয়ে উঠেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হওয়াার লবিং এ রয়েছেন কমপক্ষে ২০ নেতা। তাদের মধ্যে সভাপতি হতে চান চাকসুর ভিপি নাজিম উদ্দিন, এম. এ হালিম, ডা.খুরশিদ জামিল, ইউনুচ চৌধুরী, কর্নেল অব: বাহার ও নুরুল আমীন। সাধারন সম্পাদক পদে প্রত্যাশীরা হচ্ছেন, ্ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত, কাজী সালাউদ্দিন, জসিম উদ্দিন সিকদার, আব্দুল আউয়াল ও এডভোকেট আবু তাহের প্রমুখ।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.