অর্থবাণিজ্য ডেস্ক : এক মাস কাঁচা পাট রফতানি বন্ধের কারণে ক্ষতির দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (বিজেএ) নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বন্ধের সিদ্ধান্তের পর পাট রফতানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রেস হাউসগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে হাউসগুলোতে কর্মরত লক্ষাধিক শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের লোকজন বেকার হয়ে পড়েছেন। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির ভার সরকারকে বহন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে কাঁচা পাট ব্যবসায়ী ও পাট রফতানিকারকদের পক্ষে শেখ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘রফতানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোন প্রকার আলোচনা না করেই সরকার গত ৩ নভেম্বর থেকে টানা এক মাস পাট রফতানি বন্ধের মতো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা বিস্মিত হয়েছেন। রফতানিকারকরা আর্থিক মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘এর আগে ২০০৯ সালের ৭ ডিসেম্বরও একবার পাট রফতানি বন্ধ করা হয়, যে কারণে অসংখ্য ব্যবসায়ী লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়েছেন। আর বাকিরা দেনাগ্রস্ত হয়ে কোনো রকমে টিকে আছেন। তখন চুক্তি অনুযায়ী সময়মতো পাট সরবরাহ করতে না পারায় বহু ক্রেতা হারাতে হয়। এমনকি পাট না পেয়ে চায়না, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ব্রাজিল ও আইভরিকোস্টসহ বিভিন্ন দেশের অনেক জুটমিল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তারা অন্য ব্যবসায় ঝুঁকে পড়ায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পাটের চাহিদা অনেকাংশেই কমে গেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করে ব্যবসা পরিচালনা করেন। কিন্তু এক মাস ব্যবসা বন্ধ থাকলেও ব্যাংকের সুদ তো বন্ধ থাকবে না। বর্তমানে রফতানির উদ্দেশ্যে এলসি প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন বন্দরে হাজার হাজার টন কাঁচা পাট অপেক্ষমাণ রয়েছে। এ পাট রফতানি করতে না পারলে ব্যাংকের দেনা কোনোভাবেই পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং রফতানির উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত বৈদেশিক এলসি, চুক্তি ও বিভিন্ন বন্দরে অপেক্ষমাণ হাজার হাজার টন কাঁচা পাট রফতানির আদেশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিজেএ নেতা শেখ সৈয়দ আলী, আব্দুস সোবাহান শরীফ, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, টিপু সুলতান, এস এম হাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
