অর্থবাণিজ্য ডেস্ক :: রাজবাড়ীর পাংশা থেকে চাঁপাই নবাবগঞ্জের পাঙ্খা পর্যন্ত ৪০০ কোটি ডলার ব্যয়ে ১৬৫ কিলোমিটারের গঙ্গা বাধ নির্মাণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ভারতের সহযোগিতা চায় সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার খরচ পড়বে ৩১ হাজার ২১৬ কোটি টাকা।
ভারতের সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়াটিভির এক খবরে জানানো হয়, বাঁধটির গভীরতা হবে ১২.৫ মিটার। এর ফলে মৌসুমের সময় পদ্মা আবারও তার প্রাণ ফিরে পাবে। খরা মৌসুমে ছোট ছোট নদীকে দিতে পারবে পানি। এর পানি ধারণ ক্ষমতা হবে ২৯০ কোটি কিউবিক লিটার। এতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি লবণাক্ততাও কমবে।
বাংলাদেশে লবণাক্ততা সমস্যার জন্য ফারাক্কা বাঁধের সংশ্লিষ্টতাকেই অনেকাংশে দায়ী করা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় এবং বাংলাদেশে যেখানে গঙ্গা প্রবেশ করেছে তার প্রায় ১৮ কিলোমিটার উজানে এ বাঁধ অবস্থিত। ১৯৬১ সালে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। শেষ হয় ১৯৭৫ সালে। সেই বছর ২১ এপ্রিল থেকে বাঁধ চালু হয়।
বাঁধ নির্মাণের পর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যায়। চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন।
এক হিসাবে দেখা যায়, বাঁধ চালুর ২ বছর আগেও উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততায় প্রায় .৮৩ মিলিয়ন হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে তা ১.০৫ মিলিয়ন হেক্টরে বৃদ্ধি পেয়েছে। লবণাক্ততায় বছরে গড়ে ৬ হাজার ২০০ হেক্টর কৃষি জমি (৭ হাজার ১৪০টি ফুটবল মাঠের সমান) হুমকির মুখে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এই লবণাক্ততার মাত্রা এক কিলোগ্রাম মাটি বা পানিতে ২৫ গ্রামের সমান।
