হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি কমছে

0

অর্থবাণিজ্য ডেস্ক :: হিমায়িত খাদ্য এবং মৎস্য রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা থাকলেও গত বছরের তুলনায় এই খাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে ২২ কোটি ২২ লাখ ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এই খাত থেকে আয় হয়েছে ২২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির তুলনায় এটি ২৩ দশমিক ৭১ শতাংশ কম।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে হিমায়িত খাদ্য এবং মৎস্য জাতীয় পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ৫৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরে এই খাতে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে হিমায়িত খাদ্য এবং মৎস্য জাতীয় পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ৩০ কোটি ৭ লাখ ডলার।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে শুধু মাছ রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার। যা রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় এটি ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ কম। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে মাছ রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ১৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অন্যদিকে প্রথম ৪ মাসে মাছ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার থাকলেও আয় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৯ দশমিক ১৫ শতাংশ কম। তবে প্রথম ৪ মাসের তুলনায় নভেম্বরে মাছ রপ্তানির প্রবাহ অনেক বেশি ছিল। মাছ রপ্তানি করে এই মাসে আয় হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ডলার।

আলোচ্য সময়ে চিংড়ি রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে। একইসঙ্গে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসের তুলনায়ও নভেম্বরে এই খাতে রপ্তানি আয় অনেক বেড়েছে। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে চিংড়ি রপ্তানি করে আয় হয়েছে ২০ কোটি ৬৩ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে একই সময়ে এই খাতে আয় হয়েছিল ২৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও অক্টোবরের তুলনায় এই খাতেও পণ্য রপ্তানি অনেক বেড়েছে। গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে ১ কোটি ৫৭ লাখ ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আয় হয়েছিল ১ কোটি ১৪ লাখ মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৯২ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ১ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার। প্রথম ৫ মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এটি ৪ দশমিক ২১ শতাংশ কম হলেও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে অন্যান্য হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩৩ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। একইসঙ্গে গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে রপ্তানি আয়ের তুলনায় ৫৪ দশমিক ০৯ শতাংশ কম। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অন্যান্য হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ৭২ লাখ ১০ মার্কিন ডলার।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার চিংড়ি ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন মাহমুদ বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে মাছ চাষের মৌসুম শেষ হয়। এসময় জলাশয় পরিষ্কার করে সব মাছ বিক্রির জন্য নেওয়া হয়। আবার শীতকালে অনেক জলাশয় শুকিয়ে যায়। ফলে মাছের সরবরাহ বাড়ে।

বাংলাদেশ ফ্রুজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল বাশার বলেন, গত অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় শুধু মাছ রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও অন্যান্য হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি নেতিবাচক ধারায় ছিল। তাই সামগ্রিকভাবে এটাকে ভালো বলা যাবে না। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হওয়াটা সুখকর।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.