কল্যাণ বড়ুয়া মুক্তা: সবুজের সমারোহে ছেয়ে গেছে বাঁশখালীর বৈলগাঁও চা বাগান। বর্তমানে চা বাগানে কচি পাতা গজে উঠছে। ক্লোন চা উৎপাদন করায় এই বাগানটি বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানে রয়েছে। বাঁশখালীতে অবস্থিত ৩ হাজার ৪ শত ৭২.৫৩ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই চা-বাগানটির রয়েছে বিশাল এক ইতিহাস।তবে ৭ শত একর জুড়ে চা বাগান থাকলে ও বাকী এলাকা এখনো খালি রয়েছে । তাছাড়া পাহাড়ী ও ঢালু এলাকা হওয়াতে সব জায়গায় এখন ও চারা রোপন করা সম্ভব হয়নি ।
চলতি বছরে বৃষ্টিপাত কম হওয়াতে চলতি চা পাতা উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্র রয়েছে সে অনুসারে পাতা উৎপাদন কঠিন হচ্ছে বলে বাগান কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায় । তাছাড়া কম বৃষ্টিপাত হওয়াতে পাতার মাঝে নানা ধরনের রোগ বালাই হচ্ছে যেটার কারনে পাতার সমস্যা হচ্ছে । প্রতিদিন ৭ শতাধিক শ্রমিক এই চা বাগানে তাদের শ্রমের মাধ্যমে নতুন পাতা উৎপাদন ট্রেসিং থেকে শুরু করে চা-বাগানের সামগ্রিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বাঁশখালীর চা সারাদেশে মানের দিক দিয়ে সম্মান জনক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান চা বাগান কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চা বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতি বছর জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী মাসে চা-পাতা তোলা না হলেও অপরাপর সময়ে চা-শ্রমিকরা তাদের কর্মঘন্টা অনুসারে ২৫ কেজি চাপাতা তুলে থাকেন। চা বাগানের অভ্যন্তরে ৭ শতাধিক কর্মচারী নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা সহ অন্যান্য সার্বিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে বলে জানান ।
এদিকে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে প্রতিদিন বাগানের সর্বত্র আধুনিক উপায়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করায় প্রতিদিনই নতুন নতুন কচি পাতা গজে উঠছে। বর্তমান শীত মৌসুম আসতে না আসতেই এই চা-বাগানে পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন বাগানের নতুন কচি পাতা গজে উঠার দৃশ্য দেখার জন্য। বাঁশখালীর বৈলগাঁও পুকুরিয়া সরকার চা বাগান পরিদর্শনকালে বাগানের ম্যানেজার আবুল বাশারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাঁশখালীর এই বিশাল চা বাগানের চা পাতা সারা দেশে সুখ্যাতি রয়েছে।
যার ফলে দেশের যত সব চা বাগান রয়েছে বাঁশখালীর চা বাগানের পাতা মানের দিক দিয়ে এগিয়ে । এই মানের জন্য চা বাগানের কর্মরতরা প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের উৎপাদন যত বৃদ্ধি পায় সরকার রাজস্ব তত বেশি পায়। বর্তমানে চা পাতার বিক্রিত অর্থ থেকে সরকার ১৫% হারে ভ্যাট পান।
তবে তিনি বাগানের কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, চা বাগানের চার পাশে ঘেরা বেড়া না থাকায় প্রতিদিন হাতির পাল চা বাগানে ছুটে আসে। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রায় সময় শংকিত অবস্থায় থাকে। তিনি সরকারী এই রাজস্ব আয়ের অন্যতম চা-বাগানকে আরো বেশি পৃষ্টপোষকতার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
