অনলাইন ডেস্ক : কিছু মৌলিক কারণে চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলের উদাসীনতায় দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই চ্যানেলে একের পর এক জাহাজডুবির ঘটনা ঘটছে। ঘন ঘন জাহাজডুবি হলেও তা যথাযথভাবে উদ্ধার করা হয় না।
ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধারে অনীহা, ক্রটিপূর্ণ নৌযান চলাচল, দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের বিধান না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল চ্যানেলে জাহাজ না ডুবলেও ডুবে থাকা জাহাজগুলো নদীর নাব্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে।
পরিসংখ্যানে জানা যায়, গত আট বছরে চট্টগ্রাম বন্দরের চ্যানেলে ২৫টি ছোট বড় লাইটারেজ জাহাজ ডুবেছে। এগুলোর বেশিরভাগই ডুবে রয়েছে চ্যানেলসহ সন্নিহিত এলাকায়।
তথ্য সূত্রে, গত আট বছরে ২৫ টিরও বেশি লাইটারেজ জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর বেশির ভাগ চ্যানেল বা চ্যানেলের আশেপাশে তলিয়ে রয়েছে।
এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্ল্যানিং অ্যান্ড এডমিন) জাফর আলম বলেন, চ্যানেলের ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত সজাগ। সম্প্রতি যেই চারটি জাহাজ ডুবেছে তার মধ্যে দুইটি সন্দ্বীপের অদূরে। একটি পতেঙ্গার বাইরে। যেগুলোর সাথে আমাদের চ্যানেলের কোন সমস্যা নেই। তবে আমাদের এরিয়ার মধ্যে ল্যাবস-১ নামের একটি জাহাজ ডুবেছে। আমরা ওই জাহাজটির মালিককে উদ্ধারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি।
এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০০৮-২০১৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর, মোহনা ও কর্ণফুলী নদীতে ২৫টির মতো লাইটারেজ জাহাজ এবং ট্যাংকার ডুবেছে। গত বুধবার একদিনেই মাত্র ঘণ্টা কয়েকের ব্যবধানে ডুবে যায় চারটি জাহাজ। এরমধ্যে দুটি সন্দ্বীপের অদূরে বঙ্গোপসাগরের ভাসানচর এলাকায়, একটি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় এবং অন্যটি পতেঙ্গো সৈকতের কাছে ডুবে যায়। কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে ১ ও ৩ নম্বর বয়ার মাঝখানে ডুবে যাওয়া জাহাজটি বন্দর চ্যানেলে ডুবলে চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যেত। চ্যানেলের সন্নিকটে এই ঘটনা ঘটলেও ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।
ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। আর বন্দর চ্যানেল হচ্ছে দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ। এমন গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি একটি বিষয়ের প্রতি সংশ্লিষ্টদের চোখে পড়ার মতো উদাসীনতা মেনে নেয়া যায় না।বিডিলাইভ
