আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে আত্মপ্রত্যয়ী হতে হবে- ইকবাল সোবহান

0

নিজস্ব সংবাদদাতা,চন্দনাইশ : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হতে হবে। বিগত ১’শ বছরে যে সকল শিক্ষার্থী নিজেরা আলোকিত হয়ে সমাজের বাতি হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন তাদের সারিতে নিজেদেরকে তৈরি করার জন্য শিক্ষার্থীদের পরিশ্রমী,সততা ও দায়িত্ববোধের পরামর্শ দেন। আমরা স্বাধীন বাংলাাদেশ পেয়েছি বলেই স্বাধীনভাবে কথা বলার,শিক্ষা গ্রহন করার সুযোগ পেয়েছি। যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে নিজেদেরকে আত্ম প্রত্যয়ী হাওয়ার আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সেদিন স্বাধীনতা যুদ্ধে গিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি। অনেকে শহীদ হয়ে দেশ ও দেশের পতাকা আমাদের উপহার দিয়েছে। সে পতাকার সুনাম রাখতে আজকের শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে ব্রত হাওয়ার আহবান জানান। দেশের প্রতি আজকের শিক্ষার্থীদের অনেক দায়িত্ব আছে। তোমাদের প্রতি দেশের অনেক প্রত্যাশা। জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষক,অভিবাবক,গুনীজনদের সম্মান করার গুরুত্ব আরোপ করেন।

দেশকে জানতে হলে, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য, নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে। সন্ত্রাস,দুনীতি, মাদক মুক্ত আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে আত্ম প্রত্যয়ী হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরা অনেক ভাগ্যবান ডিজিটাল যুগে এসে পৃথিবীর সব কিছু এখন হাতের মুঠেই পাচ্ছে। সেটাকে কাজে লাগিয়ে নিজের শুপ্ত প্রতিভাকে বিকাশিত করে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। বর্তমান শিক্ষার্থী ও তরুনদের দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। তোমার হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করে আগামী ২০২১ সালে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালে প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের অঙ্গিকার ব্যক্ত করতে হবে। দেশপ্রেম মুক্তিযোদ্ধার চেতনা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্টায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।
প্রধান আলোচক দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম.এ মালেক বলেছেন, বিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাবান,খ্যাতি সম্পন্ন, দেশ বরণ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের তালিকায় নিজেদের চাফ বসাতে হবে। তাহলে বিদ্যালয়ের সার্থকতা। ভারতের প্রেসিডেন্ট আবদুল কালাম ফেল সর্ম্পকে বলতে গিয়ে ফেলে অনেক কিছু আছে বলেছেন। চিন্তা করতে পারলে আমরা পারব। চিন্তা করতে হবে চিন্তা থেকেই কাজের শক্তি ও উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে। জীবনে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। তাহলে আমরা সফল হব। ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম থেকে প্রথম দৈনিক আজাদী বের হয়। তিনি বলেন, ৬ দফা আন্দোলনের সময় ছবি তুলতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে ৬ ঘন্টা জেলে ছিলেন। সাংবাদিকতা জীবনে এইটাই তার বড় স্মৃতি। বিদ্যালয়ের নামে নিত্যানন্দ শব্দকে ভেঙ্গে নিত্য আনন্দের মাধ্যমে গৌরবের সাথে লেখাপড়া শেষ করে নিজেদেরকে গড়ে তোলার আহবান জানান তিনি।

ঢাকা জার্নালিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি সাবান মাহমুদ বলেছেন,বাংলাদেশ শেখ মুজিবের রাজনৈতিক চিন্তার দর্শনের বাস্তবরূপ। তার ও মুক্তিযোদ্ধাদের আত্ম-ত্যাগের বিনিময়ে আজকের বাংলাদেশ। তোমাদের মধ্যে অনেক স্বপ্ন লুকিয়ে আছে। তা বাস্তবায়ন করতে হলে, স্বপ্নকে লালন করে চূড়ান্ত পর্যায়ে পরিকল্পনার মাধ্যমে আদর্শবান রাজনীতি,অসম্প্রাদায়িক ও গণতান্ত্রিক চিন্তা চেতনায় এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাহিত্য সাংস্কৃতিক,ভৌগলিক ইতিহাস,ঐতিহ্য, গণতান্ত্রিক যোগ্য নেতৃত্ব তোমাদের মাঝ থেকে উঠে আসবে। তোমাদের মাঝে রয়েছে, রবীন্দ্রনাথ,নজরুল,ডা.নরুল ইসলাম,কবি আহমদ ছফা,শেহাব উদ্দীনের মত অনেক প্রতিভাবান। আগামীদিনে তোমাদের মাঝ থেকে বেরিয়ে আসবে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক,সাহিত্যিক,শিক্ষক,বুদ্ধিজীবী। তোমরাই হবে দেশের আগামী দিনের মন্ত্রী,সচিব ও সম্ভবনাময়ী মেধাবী মুখ। তোমাদের এ শিক্ষা দেশ,জাতির ও এলাকার জন্য অনেক বড় সম্পদ। পরিকল্পিত শিক্ষা গ্রহনের মাধ্যমে নিজেদেরকে গড়ে তোলার আহবান জানান।

রবিবার ২৪ ডিসেম্বর সকালে চন্দনাইশ পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী, প্রাচীনতম গাছবাড়ীয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ৩দিন ব্যাপী অনুষ্টান মালার সমাপনী দিনে আলোচনা সভা পরিষদের সদস্য সচিব আবদুল কৈয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত হয়।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, ঢাকা জার্নালিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি সাবান মাহমুদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাছান মাহমুদ হাছনী।

আলোচনায় অংশ নেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান,থানা অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দীন খন্দকার, উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ডা. শাহাদত হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু কাউসার,মীর মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, গোপাল কৃষ্ণ লালা, মোরশেদুল আলম,এড.নজরুল ইসলাম, কমর উদ্দীন, সরওয়ার আহছান, জামাল উদ্দীন। ৩দিন ব্যাপী অনুষ্টান সঞ্চালনায় ছিলেন, বিশিষ্ট আবৃতিকার এড.মিলি চৌধুরী ও এড. মোস্তাফা মোহাম্মদ ইমরান। ৩ দিন ব্যাপী অনুষ্টানে আলোচনা শেষে ঢাকা ও চট্টগ্রামের খ্যাতিমান শিল্পীদের নিয়ে সংগীত নৃত্যানুষ্টানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের ৩ প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম,সাবেক রাষ্টদূত কে.এম. শেহাব উদ্দীন, কবি সাহিত্যিক আহমদ ছফাকে মরণোত্তর সংবর্ধনা দেয়া হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.